মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মাঠের পর মাঠ সরিষা ফুলের হাতছানি মৌ মৌ গন্ধ প্রকৃতির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়। দেশের ঋতু পরিক্রমায় হেমন্ত ও শীত-বসন্তের ঋতুতে আমাদের দেশের মাঠে মাঠে সরিষা চাষ করে কৃষকেরা। মাঠের পর মাঠ সরিষা ফুলের অপূর্ব হলুদ শোভার চোখ জুড়ানো দৃশ্য পথচারীদের আকৃষ্ট কওে তোলে। চলতি মৌসুমে মাগুরা জেলায় লক্ষ্যমাত্রার থেকে বেশি সরিষা চাষ হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরা তেলের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনৈতিকভাব লাভবান হবে বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক কৃষি অফিস।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের উপ-পরিচালক আহমদ হোসেন ইকবাল জানান, গত কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলে সরিষা চাষ বেড়েছে। এবার খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৬৫ হাজার ৭শ’ ৭২ হেক্টর সর্ষে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হলেও চাষ হয়েছে ৬৭ হাজার ১শ ৫০ হেক্টর জমিতে। সর্ষের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৯শ’ ২৬ টন। কারণ হিসাবে তিনি জানান, আমন ধান কাটার পর মাঠ ফাকা হয়ে যাওয়ায় একটি তাগিদ থেকেই সরিষা চাষ করে কৃষকরা। সরিষা তুলে আবার বোরো ধান আবাদ করা যায়। এ ছাড়া মাত্র ৭০ থেকে ৮০ দিনেই সরিষা চাষ হয়। আবার বাজারে তেলের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা মেটানোর জন্যই কৃষকরা সরিষা চাষে ঝুকছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে মাগুরা জেলায় লক্ষমাত্রা ছিল ১২ হাজার ১শ ৮২, চাষ হয়েছে ১২ হাজার ৮০ হেক্টর। জেলার বিনোদপুরের কৃষক বাবুল হোসেন জানান, সরিষা উঠার পর ওই জমিতে বোরো চাষ করা যাবে। বোরো কাটার পর পাট বা আউশ ধান চাষ করা যাবে। একই জমিতে বছরে ৩টি ফসল ফলবে। যে কারণে কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
সদর উপজেলার শ্রীকুন্ডি গ্রামের আকবর আলী জানান, আমি এবছর ২ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। তিনি আরো জানান, সরিষা চাষে খরচ কম সময়ও লাগে কম এছাড়া সরিষা তুলে সহজেই ধান চাষ করা যায়।
জসিম উদ্দিন জানান, তেলের দাম বেশি হওয়ায় কৃষক ফের সরিষা চাষে ঝুঁকছে। গত বছর দাম ভাল পাওয়ায় এবার ২ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি।
বরকত আলী জানান, এবছর আমি আড়াই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। তিনি জানান, বছরে আমারা ১২ থেকে ১৩ মণ সরিষা উৎপাদন করি। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা বিক্রি করবো।



