মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর প্রশ্নপত্র ফাঁসের জোরালো অভিযোগ উঠেছে। কোচিং সেন্টারসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া হাতে-লেখা প্রশ্নপত্র ইংরেজি ও বাংলা পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলেছে বলে অভিভাবকরা জানিয়েছেন। এসব প্রশ্ন তারা বিভিন্ন মাধ্যমে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
সমাপনীতে সমাজ বিষয়ের পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। গত রাতে এ বিষয়ের প্রশ্নেরও সন্ধান মিলেছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন। হাতে-লেখা কপি ও আগেভাগে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া এসব প্রশ্নপত্র পরীক্ষায় শতভাগ মিলে যাওয়ায় সাধারণ অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠলেও পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহা. সিরাজুদ্দৌহা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি জানলেও ঝামেলা এড়াতে কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না।
মহম্মদপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক জানান, গতকাল সোমবার সমাপনীর বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। তার এক আত্মীয় মোবাইলে বাংলার কিছু প্রশ্ন বলে দেন। তিনি সন্তানকে কিছু না বলে সেগুলো অনুশীলন করান। পরীক্ষা শেষে দেখা যায়, রচনা, বিপরীত শব্দ, বাগধারাসহ বেশ কিছু বিষয় হুবহু কমন পড়ে।
রোববার ইংরেজি পরীক্ষার দিন সকালেও পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির কথা বলে কিছু প্রশ্নের উত্তর রপ্ত করে দেওয়া হয়। পরে গত দুদিনই দেখা যায়, সেগুলো পরীক্ষার মূল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে।
তবে এসব বিষয়ে মাগুরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহা. সিরাজুদ্দৌহা বলেন, ‘তারা কোথাও কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাননি। বরং শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা চলছে।’
তিনি বলেন, ‘একটি চক্র গত কয়েক বছরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখে সাজেশন করে বাজারে ছাড়ে। তার থেকে কিছু মিল পড়লে পড়তেও পারে। শতভাগ না মিললে সেটাকে কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁস বলা যাবে না।’
উল্লেখ্য, মাগুরার চারটি উপজেলার ৪৩টি কেন্দ্রে এবার প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দিচ্ছে ২৫ হাজার ৭২৬ জন শিক্ষার্থী। গত ২৩ নভেম্বর রোববার বেলা ১১টা থেকে ইংরেজি বিষয় দিয়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে।


