মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতি পোষাতে বিনামূল্যে সার বীজ পেয়ে নেরিকা জাতের ধান চাষ করে উল্টো ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাগুরার দরিদ্র কৃষকেরা। চলতি আমন মৌসুমে কৃষকদের নেরিকা জাতের ধানবীজ সরবরাহ করেছে কৃষিবিভাগ। কৃষকদের অভিযোগ, বীজ বপন করা বেশির ভাগ খেতে মাত্র ১৫ দিনেই শিষ এসে গেছে। এই শিষ থেকে ধান পাওয়া যাবে না। অল্প দিনেই চিটা হয়ে গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমন মৌসুমে তারা দেশি জাতের বীজ ব্যবহার করে বিঘা প্রতি ২০ মণ ধান পেতেন। আর এখন পাবেন মাত্র দুই মণ।
কৃষকেরা জানান, ‘সরকার তাদের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে বিনা মূল্যে ধানবীজ দিয়েছিল। কিন্তু কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এমন জাতের বীজ তাদের দিয়েছেন, যা চাষ করে তারা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে মাগুরায় ৯৯০ জন কৃষকের মাঝে ১০ কেজি করে মোট ৯ হাজার ৯০০ কেজি নেরিকা জাতের ধানেরবীজ বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয়। একইভাবে ২০০ জন কৃষকের মাঝে পাঁচ কেজি করে মোট এক হাজার কেজি দেশি উফশী জাতের বীজ দেওয়া হয়। এর মধ্যে নেরিকা জাত চাষ করা কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ওই বীজ ব্যবহার করা অধিকাংশ কৃষকের খেতে ধানগাছে অসময়ে শিষ এসে গেছে। অল্প দিনেই এগুলো চিটা হয়ে যাচ্ছে।
মহম্মদপুর সদরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কবির হোসেন বলেন,‘ তার আবাদ করার মতো কোনো জমি নেই। গরীব চাষি হওয়ায় কৃষি বিভাগ থেকে তিনি ১০ কেজি বীজ পান। ওই বীজ তিনি ৩৩ শতক জমিতে রোপণ করেন। ইজারাসহ ধান চাষ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। তিনি ওই জমিতে ধান পাবেন মাত্র দুই থেকে তিন মণ। অথচ তার ধান পাওয়ার কথা কমপক্ষে ১৬ মণ।’
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, নেরিকা জাতের জীবনকাল তিন মাস। তার পরও অসময়ে ধানগাছে শিষ এসে গেছে। জেলা সদর, মহম্মদপুর, শ্রীপুর ও শালিখা উপজেলার উপজেলার যারা নেরিকা জাতের ওই বীজ রোপণ করেছেন, তাদেরও একই অবস্থা বলে কৃষি বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘জাতটি এই অঞ্চলে নতুন। জাতটি সম্পর্কে তেমন ধারনা না থাকায় এমন হতে পারে বলে তিনি জানান।’

