মাগুরায় নবগঙ্গার বুকে খেলার মাঠ: মৃতপ্রায় কুমার, ফটকি, চিত্রা, গড়াই ও মধুমতি

মাগুরানিউজ.কমঃ 

11034211_161920034164ty752ui48_4267031593851699161_n

মাগুরা জেলার ৬টি নদী শুকিয়ে গেছে। এতে জীববৈচিত্র প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পরিবেশের মারাত্মক হুমকিসহ সেচ কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে।

নাব্যতা হারানোর কারণে নদীবক্ষে বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে জেগে উঠেছে চর। জেলার ৪ উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত এক কালের খরস্রোতা বর্তমানে মৃতপ্রায় নদীগুলো হচ্ছে নবগঙ্গা, কুমার, ফটকি, চিত্রা, গড়াই ও মধুমতি। গুরুত্বপূর্ণ এ নদীগুলোর সাথে জেলার ৪ উপজেলার ৮ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগাযোগ রয়েছে। তাছাড়া এসব নদী সংলগ্ন পাশ্ববর্তী খালের মাধ্যমে ৩০ হাজার হেক্টর জমির সেচ কার্যক্রম নির্ভরশীল।

11034211_16192003416452ui48_tyu4267031593851699161_n

নদীগুলোর পানি প্রবাহ কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আসার কারনে অনেক এলাকায় সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে দেখা দিয়েছে পণ্য পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা। ফলে নদীগুলো হারিয়ে ফেলছে বাণিজ্যিকসহ সকল গুরুত্ব।

গড়াই এবং মধুমতি নদীর বক্ষে বিশাল চরের কারনে জেলার শ্রীপুর, মাগুরা সদর ও মহম্মদপুর উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রা চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে। এছাড়া চিত্রা নদীটি জেলার শালিখা উপজেলা ও যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার মধ্যদিয়ে নড়াইলে গিয়েছে। জেলার সংযোগ রক্ষাকারী এই নদী বর্তমানে পুরোটাই মরে গে্েছ। জেলার অপর নদী কুমারের বুক জুড়ে মাইলের পর মাইল চর জেগে উঠেছে। এক সময়ের খরস্রোতা এ নদী বর্তমানে পানিশূন্য জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পানি ধরে রাখার ক্ষমতা না থাকায় নদীর পানি উপচে একদিকে বন্যা অপরদিকে নদী ভাঙ্গনে জনজীবনে নেমে আসে ভয়াবহ দূর্যোগ। এতে ফসল ঘরবাড়ি বৃক্ষসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোটি কোটি টাকার সম্পদ।

11034211_16192003416452ui48ty_4267031593851699161_n

মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উল্লেখিত ৬টি নদীর মধ্যে গড়াই নদীর ৩০ কিলোমিটার এলাকা খননের কাজ চলছে। ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যায়ে কুষ্টিয়া জেলার তালবাড়িয়া থেকে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার কামারখালীতে মধুমতি নদীর সংযোগ স্থল পর্যন্ত খনন কাজ চলছে। কিন্তু এ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা কি তা পাউবো’র মাগুরা নির্বাহী প্রকৌশলী বলতে পারেননি। তিনি বলেন, আমি নতুন যোগদান করায় এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছিনা। তবে নদী খননের কয়েকটি প্রকল্প উচ্চ পর্যায়ে পাঠান হয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদন হয়ে আসলে সমস্যার কিছুটা সমাধান সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। খনন কাজ সম্পন্ন হলে গড়াই নদী কিছুটা হলেও প্রাণ ফিরে পেত বলে অনেকের ধারণা। এ ছাড়া জেলার অন্যান্য নদীগুলোর পাড় ও নদী সংলগ্ন খাল বিল সংস্কার ও জলবদ্ধতা থেকে এলাকার মানুষকের্ ক্ষার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড প্রকল্পের আওতায় ৮১ কোটি ২ লাখ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বর্তমান অবস্থা কি তা জানেন না মাগুরা পানি উন্নয়ন কতৃপক্ষ। মানুষের জীবন মানের উন্নয়নের জন্য  নদীগুলোর খনন ও সংস্কার জরুরী বলে মাগুরাবাসী মনে করছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: