মাগুরানিউজ.কমঃ
বাংলার কৃষকের ঘরে ঘরে আগের মত নবান্ন উৎসবের আমেজ কিংবা জৌলুস না থাকলেও আজ নবান্ন উৎসব। এক সময় অগ্রহায়ন মাস জুড়ে কৃষক এবং তাদের পরিবারের সবাই নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে মুগ্ধ থাকতেন। উৎসব আর আনন্দের জোয়ার বয়ে যেত কৃষকের ঘরে ঘরে। নতুন ধানের পিঠা-পায়েস তৈরিতে ব্যস্ত থাকতেন কৃষাণীরা। এখন অনেকটা ঘটা করেই নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ উৎসবে প্রাণ নেই বলে প্রবীণরা জানান।
১ অগ্রহায়ন নবান্ন উৎসব। যা বর্তমানে জাতীয় কৃষি দিবস হিসেবে পালন করা হয়। তবে আগে অগ্রহায়ন মাসজুড়ে চলতো নবান্ন উৎসব। কৃষকরা নতুন ধান ঘওে আনার আগে মাটি এবং গোবর গুলিয়ে কৃষাণীরা বাড়ির আঙিনা ও ধানের গোলা লেপে পরিপাটি করতেন। নতুন ধানের আঁটি মাথায় কিংবা গরুর গাড়িতে এনে ফেলা হতো লেপে রাখা ওই উঠোনে। এরপর মাড়াই করে ধান রোদে শুকিয়ে মচমচে করা হত। কৃষাণীরা সেই ধান ঢেঁকিতে পিষে চাল তৈরি করতেন। এরপর সন্ধ্যায় ওই চাল গুড়ো করে তৈরি করা হতো পিঠা-পায়েস। কৃষকরা সারাদিন কায়িক পরিশ্রম করে উঠোনের পাশে বসে যেতেন খেতে। পাশে চলতো জারীগান, জোক কিংবা পুঁথি পাঠের আসর। বাড়ির ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা পিঠাপুলি নিয়ে আনন্দে ছোটাছুটি করতো। এছাড়া মুসলিম সম্প্রদায় মসজিদে সিন্নি আর হিন্দু সম্প্রদায় মন্দিরে প্রসাদ পাঠাতেন।
এটাই ছিল বাঙালির নবান্ন উৎসবের চিত্র। কিন্তু হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙালির চিরন্তন এই নবান্ন উৎসব। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও কর্মব্যস্ততায় এখন নবান্ন উৎসব ভিন্নরূপ নিয়েছে। ঘটা করে এ উৎসব উদযাপন করা হয় শহরে।
অশীতিপর বৃদ্ধ কৃষক মাগুরা সদর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার মোল্লা জানান, আগে নবান্ন উৎসবে খাবার খাওয়ার প্রতিযোগিতা করা হতো। যে যত বেশী খেতে পারবে তাকে উপহার দেয়া হতো। উপহার ছিলো দুগ্ধবতী গাভী কিংবা ছাগল। বিভিন্ন স্থানে মেলা বসত। অবস্থা ভাল যেসব কৃষকের তারা নবান্ন উৎসবকে ঘিরে লাঠিখেলা, হা-ডু-ডু, ষাড়ের লড়াই নৌকাবাইচসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করতেন। এখন এসব অতীত।


