মাগুরানিউজ.কমঃ
টানা ৪২ দিন অবরোধ। মাঝে মাঝে হরতাল। রাস্তায় নামতে আছে নাশকতার ভয়। অবরোধকারীদের পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হওয়ার ভয়। তারিখের পর তারিখ পরিবর্তন হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার। কিন্তু কতো দিন?
সাধারণ মানুষের ধর্য্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। হরতাল-অবরোধ উপেক্ষা করে জীবিকার টানে রাস্তায় নেমে পড়ছে সাধারণ মানুষ। সাধারণ দিনের মতোই রোববার সকাল থেকে মাগুরা থেকে বিভিন্ন রুটে ছেড়ে গেছে বাস। কোনো ধরনের পুলিশি পাহারা ছাড়াই মালামাল নিয়ে চলাচল করছে ট্রাক-লরিসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহন।
সোমবার বেলা ১১টা। মাগুরা ভায়না মোড় এলাকায় টমাটোবাহী একটি ট্রাক এসে থামে। গাড়ি থেকে নেমে চালক একটি চায়ের দোকানে ঢুকলেন। আলাপচারিতার প্রথমেই তার নাম জানালো আসলাম। টমেটো বোঝাই ট্রাকটি তিনি মেহেরপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছেন।
হারতাল ও অবরোধের মধ্যে ট্রাক চালাতে ভয় লাগছে না? এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাকচালক আসলাম বললেন, ‘ভাই ক্ষুধার কাছে এসব কিছুই মনে হয় না। প্যাটে তো কিছু দিতে হবে। তা না হলেও তো বাঁচম না। ২০ দিন ধরে কোনো ভাড়া বাই না। আর কতো? বাড়িত স্ত্রী-সন্তান আছে। তাদের পেটেও তো কিছু দিতে হবে।’
২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধের চলমান শেষ দফার ৭২ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয় দিন আজ। তবে অবরোধ ও হরতালের কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সকাল থেকে রাস্তাগুলোতে হালকা যানের পাশাপাশি ভারী যানবাহন চলাচল ছিলো চোখে পড়ার মতো।
মাগুরাতে সোমবার নিস্প্রাণ হরতাল চলেছে। দুপুর পর্যন্ত কোথাও কোনো পিকেটিং এর সংবাদ পাওয়া যায়নি। হরতালের সমর্থনে কোথাও মিছিল ছিলনা।
নতুনবাজার এলাকার অটোচালক আল-আমিন বলেন, ‘যারা হরতাল-অবরোধ ডেকেছে তারা কি আমাদের খেতে দেবে। যদি দেয়, তাহলে অটোরিকশা না চালিয়ে ঘরে বসে থাকবো। কিন্তু কেউ তো খেতে দেয় না। বসে থেকে খাওয়াবে এমন মানুষের তো একটিও দেখা পাওয়া যায় না।
শুধু যানবাহনই নয়। হরতাল মানছেন না ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায়ীরা। ৫ জানুয়ারির পর থেকে নাশকতার ভয়ে দীর্ঘদিন দোকান পাট বন্ধ রেখেছিল ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যবসায়ীদেরও দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। ৪১ দিনের অবরোধে অনেক ব্যবসায়ী ইতোমধ্যেই বড় অংকের লোকসানে পড়েছে। ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে তাই গত এক সপ্তা থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান খুলতে শুরু করেছে।
মাগুরার পুরাতন বাজার এলাকায় ফুটপাতে লুঙ্গি-গামছা দোকানি আহাম্মেদ জানান, হরতাল ও অবরোধের মুখে রাস্তায় বসে ব্যবসা করা অনেক কষ্টের। কখন কি যে ঘটে তা বলা যায় না। তবু পেটের দায়ে ঘরে বসে থাকলে তো আর চলবে না। তাই দোকান খুলে বসতে হয়েছে।
মাগুরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্টিজের নেতারা বলেন, ‘এভাবে চলতে পারে না। হরতাল ও অবরোধের কারণে সবচেয়ে বেশি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আন্দোলনের নামে যে হরতাল ও অবরোধ চলছে তাতে পথে বসতে হবে ব্যবসায়ীদের।’




