মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার চার উপজেলায় আসন্ন উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ করা হচ্ছে। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ফি সর্বোচ্চ এক হাজার ৬৭০ টাকা। কিন্তু কলেজগুলো ফরম পূরণের সময় এর চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, কোনো কোনো কলেজ অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য, আবার কোনোটি অন্য খাতে টাকা নিচ্ছে। পরীক্ষা শুরুর সম্ভাব্য সময় ১ এপ্রিল হলেও কোনো কোনো কলেজ আগামী বছরের জুন পর্যন্ত মাসিক বেতন নিচ্ছে। ফরম পূরণের সময় বোর্ড অনুমোদিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ না নেওয়ার জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকলেও কেউ তা মানছেন না
যশোর বোর্ডের সময়সূচি অনুযায়ী গত সোমবার কলেজগুলোতে ফরম পূরণ শুরু হয়েছে। তবে কিছু কলেজ আগেই ফরম পূরণের কাজ শুরু করে। বিলম্ব ফি ছাড়া পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ ও ব্যাংক ড্রাফট বা টিটি করার শেষ সময় ২৮ ডিসেম্বর এবং বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণ করা যাবে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। বোর্ডের নির্ধারিত পরীক্ষা ফি প্রতি পত্র বা বিষয়ের জন্য ৭৫ টাকা (মোট বিষয় ১৩টি), প্রতি পত্রের ব্যবহারিক পরীক্ষা ফি ২৫ টাকা (যাদের আছে), কেন্দ্র ফি ৩০০ টাকা, নম্বরপত্রের জন্য ৫০ টাকা, সনদ ফি ১০০ টাকা, রোভার স্কাউট বা গার্ল গাইডস ফি ১৫ টাকা এবং জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ফি পাঁচ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মহম্মদপুর, শালিখা উপজেলায় দুটি সরকারি ও ২৪টি বেসরকারি কলেজ রয়েছে। এ সব কলেজ থেকে এবার প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী আসন্ন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদরের সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ফরম পূরণের সময় একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সব মিলিয়ে পাঁচ হাজার টাকার বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন। এই কলেজে বোর্ডের ফির বাইরে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসের বেতন বাবদ এক হাজার ২০০ টাকা, পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কোচিং বাবদ দুই হাজার ২০০ টাকা, বনভোজন বাবদ ৫০০ এবং বিবিধ হিসেবে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজটির অধ্যক্ষ এলিয়াছ হোসেন দাবি করেন, বোর্ডের নিয়মেই ফরম পূরণের টাকা নেওয়া হচ্ছে। ওই ছয় মাসের বেতনও নেওয়া হয়েছে শিক্ষাবর্ষ হিসাব করে নিয়ম মেনে।
মহম্মদপুর আমিনুর রহমান ডিগ্রি কলেজে বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের জন্য দুই হাজার ৭৫ টাকা এবং অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য দুই হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক কম থাকায় টাকাও কিছু কম লাগছে। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মতিউর রহমান জানান, তারা বোর্ডের নিয়ম মেনেই ফি নিয়েছেন। অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্যই। এমন কিছু না করা হলে শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট-কোচিংয়ের দ্বারস্থ হবে।
মাগুরার সরকারি মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এক পরীক্ষার্থীর বাবা জানান, তার মেয়ের ফরম পূরণ বাবদ দুই হাজার ৬০০ টাকা এবং ডিসেম্বর মাসের বেতন বাবদ আরো দুই হাজার টাকা নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগেও বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে। তখন এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি টাকা নেওয়ার সাহস পেত না।’ আরো কিছু কলেজে ফরম পূরণের সময় বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকটি কলেজে ফরম পূরণের জন্য এখনো টাকা নেওয়া শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মুহাম্মদ আবু দাউদ জানান, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের বিষয়ে তারা আগাম সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। এর পরও ব্যত্যয় ঘটলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


