মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের নামে আদিবাসী পল্লীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
ইছাখাদা মির্জাপুর গ্রামের ওই পল্লীর অন্তত ২২টি পরিবার আওয়ামী লীগ নামধারী স্থানীয় চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
নানা অজুহাতে এসব পরিবারের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, না দিলে নানা শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে জানান তারা।
বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীরা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী অশিত সর্দার, রমেশ সর্দারসহ অন্যরা জানান, তারা পাঁচ পুরুষ ধরে এখানে বসবাস করছেন। পেশায় দিন মজুর।
তারা অভিযোগ করেন, গত ১ বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী পরিচয়ে ইছাখাদা এলাকার অনিক, বিপ্লব, রানা, মাসুদ, রাজাসহ বেশকিছু যুবক তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। ইতোমধ্যে তারা অশিত সর্দারের কাছ থেকে চার হাজার, রমেশ সর্দারের কাছ থেকে ১৬ হাজার, মহাদেব সর্দারের কাছ থেকে ছয় হাজার, কাঞ্জিলালের কাছ থেকে চার হাজার, সুজাতা রাণীর কাছ থেকে পাঁচ হাজারসহ ২২টি পরিবার থেকে বিভিন্ন অংকের চাঁদা নিয়েছে।
চাঁদা আদায়ের আগে তারা ওই পরিবারের নারী সদস্যদের নামে মনগড়া অপবাদ ও অভিযোগ তোলে। চাঁদা না দিলে মারধর করে, ধরে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে বলে অভিযোগ করেন তারা। মিথ্যা অপবাদের ভয়ে আদিবাসী পরিবারের মেয়েরা স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলেও জানান তারা।
এ ব্যাপারে স্থানীয় হাজীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, একটি গ্রুপ এ ধরনের কাজ করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি আদিবাসী পরিবারগুলোকে রক্ষা করাও নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।
মাগুরার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বলেন, ভুক্তভোগীদের স্মারকলিপির ভিত্তিতে এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে মামলা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


