মাগুরানিউজ.কমঃ
সম্প্রতি শ্রীপুর উপজেলার খড়িবাড়িয়া গ্রামের পিকুল লস্কর তার সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সব্দালপুর গ্রামের এক ছেলের বিয়ে ঠিক করেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ মো. আওলাদ হোসেন এই ছাত্রীর বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দেন।
পত্র-পত্রিকায় মাগুরার একটি সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের বাল্যবিবাহ বন্ধের সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদ পড়ে শিক্ষাবন্ধু শহিদুল ইসলাম আজ রোববার মাগুরার শ্রীপুরে এসে হাজির। বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পাওয়া ওই ছাত্রীকে শিক্ষা উপকরণসহ এক হাজার টাকা দিয়ে সাহায্য করেন তিনি। ওই ছাত্রীর নাম ফারহানা শারমিন রিমু। সে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার পঞ্চপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।
শহিদুল ইসলামের বাড়ি যশোর জেলার পুলেরহাট এলাকার কৃষ্ণবাটী গ্রামে। নিজ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তিনি শিক্ষাবন্ধু হিসেবে পরিচিত। পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তার নিজস্ব ভ্যান গাড়িতে করে প্লাস্টিকের মালামাল ফেরি করে বিক্রি করেন।
বয়স যখন আড়াই বছর তখন তার বাবা আমির হোসেন মারা যান। তাকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে তার মা। দারিদ্রতার কারণে তার মা অন্যের বাড়িতে কাজ কর্ম করেতেন। তবে এরই মধ্যে যখন সে একটু বড় হলো, তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেন। অর্থের অভাবে পঞ্চম শ্রেণির বেশি লেখা পড়া করতে পারেননি শহিদুল।
তবে লেখাপড়ার প্রতি এক দুর্নিবার আকর্ষণ আছে তার। এ কারণে সব সময় তার মনে হয়, তিনি যেমন অর্থের অভাবে লেখা-পড়া শিখতে পারেননি তেমনি সমাজে অনেক দরিদ্র পারবারের ছেলে মেয়েরা রয়েছে যারা অর্থের অভাবে লেখা-পড়া শিখতে পারছে না। তাদের শিক্ষার জন্য সামান্য হলেও কিছুটা সাহায্য করা প্রয়োজন। এ ব্রতকে সামনে নিয়ে ভ্যান চালক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম শিক্ষাবন্ধু সেজে দরিদ্র মেধাবী অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে থেকে সাহায্য করে চলেছেন।
ব্যবসায় লাভের টাকা জমিয়ে নিজের সংসার চালানোর পাশপাশি দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার জন্য সহয়তা করে থাকেন তিনি। শুধু নিজ এলাকাতেই নয়। দেশের বিভিন্ন যায়গায় তিনি তার সাহায্য পৌঁছে দিয়েছেন। সামর্থ অনুযায়ী তার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি এক হাজার অসহায় দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের সাহায্য করেছেন। তার এ কাজে পরিবারের সদস্যরাও তাকে সহযোগিতা করে থাকে।
রিমুর বাড়িতে গিয়ে তার হাতে পাঁচ রিম সাদা কাগজ ও ৫০টি কলম ও নগদ এক হাজার টাকা সহয়তা দেন শহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ মো. আওলাদ হোসেন, শ্রীপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মসিয়ার রহমান, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন পল্টু ও নাসিরুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ বিষয়ে ফারহানা শারমিন রিমু বলে, ‘শিক্ষা উপকরণ পেয়ে আমি অনেক খুশি হয়েছি। আমার বাবা দরিদ্র দিনমজুর। সংসারে অভাবের কারণে আমাকে বিয়ে দেওয়ার সিন্ধান্ত নেয়। কিন্তু আমি এখন লেখাপড়া শিখে আত্মনির্ভরশীল হতে চাই।’
তাকে সহায়তা করায় শিক্ষাবন্ধু শহিদুল ইসলামকে কৃতজ্ঞতা জানায় সে। পাশাপাশি তারমতো দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বৃত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানায় রিমু।


