মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের কৃষক হাসেম আলী ২৫ বিঘা জমিতে সবজি পল্লী গড়ে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। কৃষি বিভাগের সহায়তায় তিনি এ সবজি পল্লী গড়ে তুলেছেন। জমিতে ধান ফসলের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় কয়েক বছর ধরে সবজি চাষ করছেন হাসেম আলী। বাসস।
বারইপাড়া গ্রামে হাসেম আলীর সবজি পল্লীতে দেখা গেছে, তিনি তার ২৫ বিঘা জমির মধ্যে ১৫ বিঘায় পেঁপে, ৫ বিঘায় পটোল ও ৫ বিঘায় কলা চাষ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি পেঁপে ক্ষেতেসাথী ফসল হিসেবে ওল কচু চাষ করেছেন। তিনি তার সবজি ক্ষেত থেকে পেঁপেসহ অন্যান্য ফসল বিক্রি করতে শুরু করেছেন। তিনি এ বছর তার লাগানো সবজি ক্ষেত থেকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
হাসেম আলী জানান, সবজি চাষে কৃষি বিভাগ সব সময় আমাকে সহযোগিতা করেছে। তাদের সহযোগিতায় উন্নত মানের চারা ও বীজ সংগ্রহ করে জমিতে লাগাতে সক্ষম হয়েছি। এ ছাড়া সবজি ক্ষেতে পোকা দমন ও সার প্রয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৃষি বিভাগ আমাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার ২ ছেলের মধ্যে বড় ছেলে একটি কোম্পানিতে চাকরি করে। ছোট ছেলে আমাকে চাষে সহযোগিতা করে। সবজি চাষ করে লাভবান হওয়ায় বর্তমানে আমার কোনো অভাব নেই। তিনি বর্তমানে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে প্রতি মণ পেঁপে এবং পটোল বিক্রি করছেন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে প্রতি মণ দরে বিক্রি করছেন। সাথী ফসল ওল কচু এখনো ক্ষেত থেকে বাজারে বিক্রির জন্য ওঠাননি। তবে কিছু দিনের মধ্যে তা উঠিয়ে বাজারে বিক্রয় করবেন বলে জানান। তিনি জানান, পাইকারা এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে সবজি ক্রয় করে তা ঢাকা, বরিশাল, সিলেট চিটাগংসহ বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হাসেম আলী শুধু সবজি চাষের সঙ্গে সাথী ফসল চাষ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সবজি চাষ করে হাসেম আলী এখন অনেক লাভবান। সবজি চাষে তার সাফল্য দেখে বারইপাড়া গ্রামের কৃষক আতোর আলী বিশ্বাস, আবদুল হাইয়ের মতো অনেক কৃষকই সবজি চাষে ঝুঁকছেন। বর্তমানে বারইপাড়া গ্রামের শতাধিক কৃষক ৩০ একর জমিতে সবজি চাষ করছেন।
কৃষক আবুল কাশেম বলেন, আমরা আগে জমিতে ধান চাষ করতাম। হাসেম আলীর সাফল্যে দেখে এ বছর দেড় বিঘা জমিতে পেঁপেসহ সাথী ফসল হিসেবে কচুরমুখী চাষ করেছি। ইতিমধ্যে পেঁপে ও কচুরমুখী বিক্রি করে আমার ভালো টাকা আয় হয়েছে।


