মাগুরার পাশে দাড়ান। বাড়িয়ে দিন আপনার সহযোগিতার হাত

রাজীব মিত্র জয়, মাগুরানিউজ.কমঃ
নিহত রওশন আলীর স্ত্রী
নিহত রওশন আলীর স্ত্রী

মাগুরায় শনিবার রাতে একটি ট্রাকে পেট্রোলবোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ জনে। এইমাত্র প্রাপ্ত খবরে  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মতিন।

তার শরীরের শতকরা ৬৫ ভাগই পুড়ে গিয়েছিলো বলে মাগুরানিউজকে জানালেন বার্ন ইউনিটের উপদেষ্টা ড. সামন্তলাল সেন।বাকী কজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

মাগুরা-যশোর মহাসড়কের মঘীরঢালে শনিবার রাতে বালুর ট্রাকে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে দগ্ধ হয়েছেন ৯ ট্রাক শ্রমিক। এদের মধ্যে ৮ জনেরই বাড়ি সদর উপজেলার মালিকগ্রামে। পেশায় সবাই তারা শ্রমিক।

ইতিমধ্যেই দগ্ধ শ্রমিকদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন মাগুরা সদর উপজেলার মালিকগ্রামের রওশন আলী ও শাকিল আহমেদ ও মতিন।

দগ্ধ ব্যক্তিদের প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রওশন আলী রাত সোয়া ২টার দিকে মারা যান।

আজ দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ওই হামলায় আহত দ্বিতীয় ব্যক্তি শাকিল আহমেদ মারা যান। বিকালে মারা যান মতিন।

মাগুরা সদর উপজেলার মালিকগ্রামের পূর্বপাড়ার হতদরিদ্র দিন মজুর নিহত রওশন আলির স্ত্রী শুকুরন নেছা স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তার ৩ শিশু পুত্র নিয়ে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। সহায় সম্বলহীন এ পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন তিনি। মাত্র ১০ মাসের শিশু পুত্র ইব্রাহিম, ৭ বছরের ইসরাফিল এবং ১১ বছরের সাব্বির বুঝতে পারছে না তাদের পিতা চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

তার স্ত্রী শুকুরন নেছা জানান, সকালে ভাত খেয়ে বাড়ি থেকে কাজে যাওয়ার সময় বলেছিলেন ২ দিনের হাজিরার টাকা নিয়ে রাতে বাজার করে বাড়ি আসবেন। বড় পুত্র সাব্বির জানান, সকালে মাদ্রাসায় পড়তে যাওয়ার কথা বলেছিলেন বাবা তাকে।

নিহতের ভাই রেজাউল বিশ্বাস জানান, তার ভাই কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলনে না। তিনি পরের ক্ষেতে ও ট্রাকে কাজ করে সংসার চালাতন। তেমন জায়গা-জমি নেই। নিহতের বোন মাজেদা তার ভাইয়ের হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

হতভাগ্য শ্রমিকদের পরিবারগুলো এখন দিশাহারা। ‘দিন আনি দিন খায়’ এভাবে চলে যাদের জীবন, তাদের পরিবারের উপাজনকারী না থাকলে কি অবস্থা হতেপারে তা সহজেই অনুমান করা যায়।

রান্না হয়নি বেশিরভাগ বাড়িতেই। পুরো গ্রামটাই যেনো মৃত্যুপুরি। দগ্ধ শ্রমিকদের চিকিৎসার কাজে পরিবারগুলোর বেশিরভাগ পুরুষই ঢাকায় গেছেন। বাকিরা ব্যস্ত দাফনের কাজে।

কিভাবে হবে চিকিৎসা? পুরোপুরি সুস্থ কি হতে পারবে? পরিবারগুলো এখন কি করবে? সবচেয়ে জরুরী সংকটময় এই সময় তারা কাটাবেন কি করে?

সবচেয়ে বড়কথা তারা এখন খাবেন কি? সংসার চলবে কিভাবে? এরকম নানা প্রশ্ন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে দিশাহারা করে ফেলেছে। ছোটশিশু ও বৃদ্ধদের আতংকিত জিজ্ঞাসা ওরা বাচবেঁ তো? 

দেখাগেলো ইতিমধ্যেই সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছে প্রতিবেশিরা। আশেপাশের বাড়ি থেকে আসছে খাবার। 

যাহোক এখনই ওদের সহযোগিতা প্রয়োজন নইলে পরিবারগুলো সমস্যাগ্রস্থ হবে।

মাগুরাবাসী এখনই আমরা কি ওদের পাশে দাড়াতে পারিনা? আপনারা মতামত জানান, জানান এখন আমাদের করনিয় কি? সহযোগিতা করুন অসহায় এই পরিবারগুলোকে। জানান আপনার অভিমত। 

শেয়ার করুন আমাদের এই আবেদন। ছড়িয়ে দিন প্রতিটি মাগুরাবাসীর কাছে, এখন তাদের প্রয়োজন। মাগুরার পাশে দাড়ান। বাড়িয়ে দিন আপনার সহযোগিতার হাত। 

আপনার মতামত, পরামশ ও সহযোগীতা জানতে ও জানাতে ফোন করতে পারেন ০১৮৫৫৪৮৫৫৩৮ নাম্বারে। 

সম্পাদক , মাগুরানিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: