মাগুরানিউজ.কমঃ
শুক্রবার বিকাল ৪ টা মাগুরার গাংনালীয়া হাটের সড়কের রাস্তার পাশে পাশাপাশি ৩টি ইট বিছিয়ে ক্ষৌর কার্যের সামগ্রী নিয়ে বসেছে নরসুন্দর সুনীল, নেদেন, পুটু ও তারা। এ চিত্র আজকে প্রথম নয় প্রায় বহু বছর ধরে গাংনালীয়া হাট সহ পাশ্ববর্তী হাটে ভ্রাম্যমান সেলুন নিয়ে মানুষের চুল দাঁড়ির ক্ষৌর কাজ করছে এরা।
১ যুগ আগেও সকল হাট বাজারে দেখা মিলত এমন সব ভ্রাম্যমান নরসুন্দরদের, কিন্তু আধুনিকতার দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে ভ্রাম্যমান সেলুন প্রথা।
ভ্রাম্যমান নরসুন্দর সুনীলের সাথে একান্তে আলাপকালে তিনি জানালেন, ২০বছর আগে বাপের (বাবার) কাছ থেকে শিখেছি এ কাজ। বাপের সাথে এ গ্রাম ও গ্রাম ঘুরে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুল-দাঁড়ি কাটার কাজ করেছি। হাটে আগত ক্রেতারা কেনা-বেচা করার ফাঁকে এ সব ভ্রাম্যমান সেলুনে বসে চুল-দাঁড়ি কাটার কাজটিও সেরে ফেলে।
এ সব ভ্রাম্যমান সেলুনে বসার আসন বলতে একটি ইট। ইটের উপর বাজার করার ব্যাগটি বিছিয়ে বসে হাটে আগত ব্যাক্তি, আর অপর আর একটি ইটের উপর বসে নরসুন্দর করে ক্ষৌর-কার্য। ইটের উপর বসে সেলুনের কাজ করা হয় বলে, অনেকে এটিকে ইটালী সেলুন বলে থাকে। তবে এখন ইটের বদলে প্লাষ্টিকের টুলও অনেক ব্যবহার করে বলে জানাল জয়নাল।
ভ্রাম্যমান সেলুনে চুল ও দাঁড়ি কেটে প্রতি হাটে আয় হয় ১৫০-২০০টাকা। আর সপ্তাহের অন্যান্য দিনে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে মানুষের চুল দাঁড়ি কেটে বেড়ায় এ ভ্রাম্যমান নরসুন্দরা।
স্বল্প আয় কিভাবে দিন কাটে এ প্রশ্নের জবাবে নরসুন্দর নেদেন জানায়, এ কাজ করে এ পাড়া ও পাড়া ঘুরে মানুষের সাথে গভীর সর্ম্পকের টানে তারা কষ্টের মাঝেও ভ্রাম্যমান সেলুনের কাজ বাদ দিতে পারেনা। বিশেষ করে ৭০-৮০ বছরের বয়স্কদের জন্য আমরা গ্রামে গ্রামে ঘুরি, তারা ইচ্ছে করলে হাটে আসতে পারে না। তবে কোন গ্রামের সদ্যজাত সন্তানের আকিকা অনুষ্ঠানে গেলে সে দিন তারা ভাল বকশিস পেয়ে থাকে।
নরসুন্দর পটু বললেন, এ পেশা ছাড়া জীবিকা অর্জনের আর কোন পথ নেই। তবে যতই কষ্ট হোক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ পেশায় কাজ করব।



