মাগুরানিউজ.কমঃ
৪৪তম মহান বিজয় দিবস আজ। লাখো শহীদের রক্তে রাঙানো বিজয়ের এ দিন। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ বীর বাঙালির আত্মদান ও ২ লাখ মা-বোনোর সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই দিনে বিশ্বমানচিত্রে জন্ম নেয় একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ, আমাদের বাংলাদেশ। বিজয়-আনন্দের পাশাপাশি আজ তাই বেদনার সুরও বাজবে বাঙালির হৃদয়ে।
অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতাসংগ্রামে সহায়তাকারী দেশি-বিদেশি লেখক-বুদ্ধিজীবী, কূটনীতিক, সংস্কৃতিকর্মী, চিকিৎসকসহ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি রইল লাল-সবুজের শুভেচ্ছা। যাদের জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয়, বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সেই সব বীর শহীদের অমর স্মৃতি। তাদের উদ্দেশে বলছি, ‘আমরা তোমাদের ভুলব না।’
স্বাধীনোত্তর দেশে অনেক শোষণ-বঞ্চনা থাকলেও শহীদদের রক্তের ঋণ শোধে কিছুটা হলেও সফল হয়েছে দেশ। পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামসের বর্বর খুনি-জল্লাদদের বিচার চলছে। বিজয়ের এই দিনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অবদানে লাখো শহীদ পরিবারের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ কিছুটা হলেও থেমেছে। দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্র পায়ে মাড়িয়ে দৃপ্ত চিত্তে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্নের পরিবেশ অক্ষ্ণুন্ন রেখেছে বর্তমান সরকার। এক বছর আগে খুনি কসাই কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় জেগেছে ১৫ কোটি মানুষে হৃদয়ে, তার শেষ দেখতে চায় বাঙালি জাতি। একাত্তরের খুনি-শত্রুদের নেতৃস্থানীয় অনেকেই আজ কারাবন্দি। চলমান বিচার-প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত শাস্তির মধ্য দিয়ে রচিত হোক এক-একটি কলঙ্কমুক্তির অধ্যায়- সেই প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে গোটা জাতি।
বিজয়ের ৪৩ বছর পার করছি আমরা। কিন্তু এই পথচলা মসৃণ নয়। ক্ষমতার হানাহানি, কাড়াকাড়িতে দেশ বারবার অন্ধকারে ডুবে গেছে, জেগেছে আবার, বারবার। উন্নয়নের চাকাটা ঘুরছে, এগোচ্ছে দেশ। অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। শিক্ষার প্রসার, দারিদ্র্য হ্রাস, খাদ্যনিরাপত্তায় দেশের সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে উন্নয়নের ডানায় গতি সঞ্চারিত হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতি-সন্ত্রাস কমেনি। হ্রাস পায়নি বৈষম্য। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার সূচকে আমাদের অবস্থান হতাশাজনক। সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়নি, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহাবস্থান নেই, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ। বিজয়ের ৪৪তম দিবসে তাই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে- সত্যিই কি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ করতে পারছি আমরা?
স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে আমাদের সবাইকে একযোগে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে হবে।


