মাগুরানিউজ.কমঃ
শীতে কাঁপছে মাগুরা। রাতে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। গত কয়েকদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। হৃতদরিদ্র মানুষগুলোর শীত নিবারণের গরম কাপড় নেই। এ রকম পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে জেলায় চাহিদার তুলনায় অনেক কম কম্বল বিতরণ করা হয়।
মহম্মদপুর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মহম্মদপুর উপজেলার ৮ ইউনিয়নে শীতার্ত মানুষের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। কিন্তু সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে মাত্র ৬০০টি কম্বল বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অল্প সংখ্যক কম্বল বিতরণ করা নিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। সামান্য কম্বল নিয়ে বিপদে পড়তে চাচ্ছেন না ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা। অনেকে এখনো কম্বল গ্রহণ করেননি।
সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান বলেন, এই ইউনিয়নে দরিদ্র শীতার্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। শীতের কাপড় কেনার মতো সামর্থ্য তাদের নেই। অথচ সরকারিভাবে মাত্র ৭৫টি কম্বল পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদে মোট ১৩ জন প্রতিনিধি রয়েছেন। প্রত্যেককে নিজ নিজ এলাকায় বিতরণের জন্য পাঁচটি করে দিলে আমার ভাগে পড়ে মাত্র ১০টি। এই ৭৫টি কম্বল কাকে ছেড়ে কাকে দেওয়া যায়।
এদিকে তীব্র শীত পড়ায় দুস্থ লোকজন গরম কাপড় ও কম্বলের জন্য ইউপি কার্যালয়ে ভিড় করছে। মহম্মদপুর সদর ইউনিয়ন মধুমতি নদীর ভাঙন কবলিত হওয়ায় এখানে দরিদ্র লোকজন বেশি।
ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার ওয়ার্ডে কমপক্ষে ৫০০ কম্বল প্রয়োজন। মাত্র ৫টি কম্বল নিয়ে কী করব বুঝতে পারছি না। প্রতিদিনই লোকজন ভিড় করছে। তাদের কোনোভাবেই বিশ্বাস করানো যাচ্ছে না যে সরকারি বরাদ্দ নেই।
আরেক ইউপি সদস্য নওশের আলী জানান, তার নির্বাচনী এলাকায় ৪০০ দরিদ্র মানুষ শীতে কষ্ট পাচ্ছে। শীতের কাপড় কেনার সামর্থ্য তাদের নেই। সরকার মাত্র ৫টি কম্বল বরাদ্দ দিয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদর, শ্রীপুর, শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলা ও এক পৌরসভার জন্য মাত্র ২ হাজার ৮৭২টি কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০-৪০টি করে কম্বল।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী জেলায় ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১০ হাজার পরিবার দুস্থ ও হতদরিদ্র। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা জানান, জেলায় ২০ হাজার পরিবার দুস্থ ও হতদরিদ্র।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ কামরুল হাসান জানান, আটটি ইউনিয়নের জন্য মাত্র ৬০০ কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিতরণের জন্য এগুলো ইউনিয়ন পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। আরো কম্বলের চাহিদার তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।


