মাগুরানিউজ.কম:
আজ ভাষা সৈনিক হামিদুজ্জামান এহিয়ার অষ্টম মৃত্যু বার্ষিকী।এ উপলক্ষে স্মরণ সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার মরহুমের প্রতিষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল গ্রামে নাকোল সম্মিলনী ডিগ্রী কলেজে এ স্মরণ সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
বাঙালির জীবনে যে সব রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ অধিকার সচেতন করে তার মধ্যে অন্যতম বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। উদু্ হবে পাকিসত্মানের রাষ্ট্রভাষা এই ঘোষণা জিন্নাহকে বাঙালীর কাছে ঘৃণিত শাসকের ভূমিকায় চিহ্নিত করে। তমদ্দুন মজলিসের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা হিসেবে স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠার আন্দোলন পরবর্তীতে ছাত্র আন্দোলনের নতুন মেরুকরণ করে। রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ভাষা আন্দোলনের আঞ্চলিক ইতিহাস গৌরবময়। মফস্ফল থেকে আসা একদল ছাত্র এ আন্দোলনের গতিধারা পৌছে দেয় প্রত্যন্ত অঞ্চলে।
যশোর জেলার মহকুমা শহর মাগুরা। মাগুরায় ভাষা আন্দোলন ব্যাপক জনমত তৈরি করে। সেদিন তরুন ছাত্র নেতৃত্ব আবু মিয়া, মীর্জা শওকত হোসেন, হামিদুজ্জামান এহিয়া মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল, শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিখার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পোস্টার লিখন, লিফলেট বিতরণ ও বক্তৃতা দিয়ে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে জনসংযোগ তৈরি করেন। এদের সঙ্গে সর্বৰণিক যুক্ত ছিরেন জলিল খান।
রাত জেগে বেলুচ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপন বৈঠক করতে হতো। অথচ ইতিহাসে এই মুখগুলোসহ অনেক মুখই অন্ধকারে থেকে গেছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এক এ্যালবামে ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ভাষা সৈনিকদের তুলে ধরেছে। অথচ জাতীয় পর্যায়ে ভাষা আন্দোলনের স্মারক ধরে রাখার তেমন কোন উদ্যোগ আমাদের চোখে পড়েনি।
মাগুরা জেলার এক ভাষাসৈনিক একেএম হামিদুজ্জামান এহিয়া ১৯ আগস্ট ২০০৬ ইত্মেকাল করেন। ১৯৩৮ সালের ১৪ জুলাই মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল গ্রামে হামিদুজ্জামান এহিয়া জন্মগ্রণ করেন। মাগুরা মডেল স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়াদর্ী কলেজ থেকে স্নাতক পাস করে তিনি প্রথমে শিক্ষকতা ও পরবতীতে রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের চূড়ানত্ম ঢেউ মফস্বলে পৌছলে হামিদুজ্জামান এহিয়া ছাত্র সংগঠনে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে সর্বৰণিক যোগাযোগ রাখতেন। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একদল ছাত্র তাঁর কাছে কেন্দ্রীয় নির্দেশ পৌছে দিতেন। মাগুরা জেলার অভ্যনত্মরে তিনি বিভিন্ন সভা সমাবেশ করতেন। তাঁকে সরকারী কোপানলে পড়তে হয়।
১৯৫৪ সালের ২৭ ফেব্রম্নয়ারি বেলুচ আর্মড পুলিশের হাতে মাত্র ১৬ বছর বয়সে গ্রেফতার হন। তাঁকে থানা হাজতে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে থানা হাজতে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মাগুরায় স্থানানত্মরিত করা হয়।
ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের পরিণত মুহূর্তে পর্যনত্ম হামিদুজ্জামান এহিয়া সরকারী চাকরির পাশাপাশি দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। দেশের অভ্যনত্মরে থেকে যারা মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে আসে তাদের মধ্যে এই ভাষাসৈনিকের অবদান মাগুরা অঞ্চলে বেশি। সাবেক মন্ত্রী যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আওয়ামী কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মরহুম সোহরাব হোসেনের শ্যালক মরহুম হামিদুজ্জামান এহিয়া। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর নেতৃত্বের কাছে খবর যেমন পৌছে দিতেন, তেমন অস্থায়ী সরকারের নির্দেশমতো মুক্তিযোদ্ধাদের অপারেশন ও গোপন তৎপরতার লিয়াজোঁ অৰুণ্ন থাকত তাঁর মাধ্যমে। সাংসারিক দায়িত্ব বয়োবৃদ্ধ পিতা, ছোট ভাইবোনদের দেখাশোনা ও উচ্চশিৰার পথ প্রশসত্ম করতে তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হতো।
ভাষাসৈনিক হিসেবে বড়তি সুযোগ তিনি গ্রহণ করেননি, বরং সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। সনত্মানদের উচ্চশিৰা প্রদান করার পথ প্রশসত্ম ও স্বাবলম্বী করার জন্য তিনি ও তার বিদুষী স্ত্রী মাহমুদা মির্জা (অবসরপ্রাপ্ত শিৰিকা) প্রাণানত্ম চেষ্টা করেছেন। তাঁর সনত্মানদের মধ্যে বিশেষ পরিচিত কলাম লেখক সাইফুজ্জামান, ড. সাইদুজ্জামান, ড. হাদিউজ্জামান। সাগর জামান কবি। মেয়েদের মেধ্য খ্যাতিমান তাসলিমা জামান শিল্পী (চিত্র শিল্পী), জান্নাতুল ফেরদৌস শিখা, রিংকী জামান কেকা।
পিতার স্বপ্নের পথ ধরে সনত্মানেরা এগিয়ে যাচ্ছেন। ভাষাসৈনিক হামিদুজ্জামান এহিয়া যেমন গিয়েছিলেন তাঁর পিতা, এএফএম কামরম্নজ্জামান (বাসি মিয়ার) স্বপ্নের দিকে। ভাষাসৈনিক হামিদুজ্জামান এহিয়া আজ আমাদের কাছে স্মৃতির মানুষ। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মাগুরা জেলার নাকোল সম্মিলনী কলেজ। নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।আজ তার অষ্টম মৃত্যু বার্ষিকীতে আমরা তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করি।


