মাগুরানিউজ.কমঃ
আইসিসি সংবিধান লঙ্ঘণ করেছেন আইসিসি চেয়ারম্যান এন শ্রীনিবাসন। আগের দিনই জানা গিয়েছিল, আইসিসির নিয়ম লঙ্ঘণ করে বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে প্রেসিডেন্টের পরিবর্তে ট্রফি তুলে দেবেন আইসিসি চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন। শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো, নিয়ম লঙ্ঘণ করে মেলবোর্নে ক্লার্কের হাতে ট্রফি তুলে দিলেন আইসিসি চেয়ারম্যানই। শুধু তাই নয়, মঞ্চে প্রেসিডেন্ট আ হ ম মোস্তফা কামাল উপস্থিতই ছিলেন না।
বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে আইসিসির নিয়ম লঙ্ঘণের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রেসিডেন্ট আ হ ম মোস্তফা কামাল। বাংলাদেশী কয়েকটি মিডিয়ার সঙ্গে ক্ষোভের সঙ্গে তিনি জানান, ‘তারা (এন শ্রীনিবাসনরা) স্পষ্টতই আইসিসির সংবিধান লঙ্ঘণ করেছেন। যেটা স্পষ্টতই অন্যায়। এ অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না। এর বিরুদ্ধেই আমি লড়াই করে যাবো।’
কেন ট্রফি দিতে দেওয়া হলো না? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাকে কেন উপেক্ষা করা হলো সেটা দেশের মানুষ জানে। আমি দেশের জন্য কথা বলেছি। ক্রিকেটের জন্য কথা বলেছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। তাদের পক্ষে কথা বলিনি বলেই তারা আমাকে ট্রফি দিতে দেয়নি। এটা ছিল আমার সাংবিধানিক অধিকার। তারা সংবিধান লঙ্ঘণ করেছে। এটা স্পষ্টত অপরাধ।’
কলকাতার দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে, ‘শনিবার দুপুরের পর মেলবোর্নে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী যে কোন বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ওই বৈঠকে আ হ ম মোস্তফা কামালকে সভাপতিত্ব করতে দেওয়া হয়নি। এন শ্রীনিবাসন জোর করেই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন।’
দ্য টেলিগ্রাফ আরও জানিয়েছে, মোস্তফা কামাল সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন। কিন্তু প্রতিবাদ করেও কোন প্রতিকার পাননি, বরং বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং শ্রীনিবাসনের কাছে পরাজিত হন। বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, মোস্তফা কামাল একবার নয়, দু’বার অপমানিত হন। প্রথমবার সভাপতিত্ব করা নিয়ে অপমানিত হন। এরপর যখন তিনি আলোচনা করছিলন, তখন তাকে বলা হয় বৈঠকের স্থান ছেড়ে বের হয়ে যেতে।’
শনিবারের বৈঠকে দু’বার অপমানিত হওয়ার পর রোববার ফাইনালে পুরস্কার প্রদান করতে না দিয়েও অপমান করা হলো বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালকে। এক কারণেই ফাইনাল শেষে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের কাছে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আজকের এই ঘটনা (আইসিসির নিয়ম ভঙ্গ করে ট্রফি প্রদানের ঘটনা) পুরো ক্রিকেটকেই কলঙ্কিত করেছে। তারা নিজেদের কলঙ্কিত করেছে। এভাবে ক্রিকেট বিকশিত হতে পারে না। ক্রিকেটকে ঘিরে মানুষের যে ভালোবাসার স্থান রয়েছে সেটা নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। ক্রিকেট খেলাটাকেই ধ্বংস করে দিচ্ছে তারা।’
মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি দেশে ফিরে এসে আগে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করবো। একটা প্রসেস রয়েছে। আমাকে সে প্রসেস অনুসরণ করতে হবে। তারা তো ক্রিকেটকে কলঙ্কিত করে চলেছে। আমি এর প্রতিবাদ করেছি। সারা বিশ্ব দেখেছে। ক্রিকেটকে তারা যেভাবে ধ্বংস করছে, আমি এর বিপক্ষে লড়াই করে যাবো। দেখি শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হয়।
শেয়ার করুন।


