মাগুরানিউজ.কমঃ
নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী ও গাড়িচালক_ এই তিন শ্রেণীর প্রশিক্ষিত কর্মী নেবে সৌদি আরব। আগামী রোববার সৌদি উপমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসছে। এ সফরে চূড়ান্ত হবে এই তিন খাতে কত কর্মী বাংলাদেশ থেকে নেওয়া হবে। আনুষ্ঠানিক চুক্তিও হবে।
সাত বছর পর ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা পাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সৌদি মন্ত্রিসভা। তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে দেশটি। ছয়টি নতুন মহানগর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। শত বিলিয়ন ডলারের ৭৫টি মেগা প্রজেক্টের নির্মাণকাজ শিগগির শুরু হবে। রাজধানী রিয়াদে চলতি বছরেই শুরু হবে ২২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে মেট্রোরেলের কাজ। ১০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে রাবিগ উপশহর নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করেছে দেশটি।
এসব প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক প্রয়োজন সৌদি আরবের। দেশটি বরাবরই প্রবাসী শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদিতে সরকারি হিসাবে ১২ লাখ ৮০ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। শুধু বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার নিষেধাজ্ঞাই নয়, ভিসাপদ্ধতিও পরিবর্তন করেছে সৌদি আরব। এখন থেকে প্রবাসী কর্মীরা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা মালিক পরিবর্তন করতে পারবেন।
চাকরি পরিবর্তন করলে ভিসা বাতিল হবে না।
জনশক্তি রফতানিকারক এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রার সভাপতি আবুল বাশার সমকালকে বলেন, বছরেই দুই লাখ কর্মীর যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কত শ্রমিক যেতে পারবেন, তা নির্ভর করছে তাদের চাহিদার ওপর। তবে সৌদি আরবের শর্ত অনুযায়ী, শুধু প্রশিক্ষিত কর্মী নেওয়া হবে। দেশটির শ্রমমন্ত্রী আদেল ফাতিহ গত রোববার সৌদি প্রেসকে জানান, বেসরকারি খাতে শ্রমিক-স্বল্পতা রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী ও গাড়িচালক বাংলাদেশ থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের সৌদি আরবের আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
গত ১৮ জানুয়ারি প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল সৌদি আরব সফর করে। সেখানেও দেশটি এ দুই শর্ত দেয় কর্মীদের প্রশিক্ষিত হতে হবে এবং সৌদি আইন মেনে চলতে হবে।
খন্দকার মোশাররফ হোসেনও এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ২০১৩ সালের সফরে সৌদি আরব বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে ১০ হাজার ৬৩২ জনের অভিযোগের কথা জানায়। এবার এর পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো হবে। তিনি জানান, অবকাঠামো নির্মাণ খাতে সৌদির কর্মী প্রয়োজন। তাদের যত কর্মী প্রয়োজন, তার একটা অংশ বাংলাদেশ থেকে পূরণ করা হবে। এই কোটায় কমপক্ষে এক লাখ কর্মী যেতে পারবেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদেশ যেতে ২২ লাখ কর্মী এরই মধ্যে নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্য থেকেই লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে। এর বাইরে কেউ যেতে পারবেন না।
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আবারও বলেন, ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো হবে। বিমান ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান দেবে। বেসরকারি বিত্রুক্রটিং এজেন্সি কর্মী পাঠালে তাদেরও এ নিয়ম মানতে হবে।


