মাগুরানিউজ.কমঃ
নলখাগড়া বা বাঁশের বাঁশি সঙ্গীতপ্রিয় বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ। কৃষাণ-রাখাল তপ্ত খা খা দুপুরে শরীর জিরায় বাঁশির সুরে। গল্প কবিতা গানে বাঁশি এসেছে কানাইয়ের হাত ধরে। চৌরাসিয়া এদেশে বাঁশি উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ। বাঁশের এই বাদ্যটি সুরে বেসুরে বেজে ওঠে বাঙালির প্রতি উৎসব মেলা পার্বণে।
সুরেলা এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে বেনিয়া আগ্রাসনে। চৌরাসিয়ার বাঁশির জায়গা দখল করেছে আফ্রিকার ভুভুজেলা। উৎকট আর বিরক্তিকর এই শব্দযন্ত্রটি আজ বাঙালির প্রতিটি উৎসবে বাজছে তরুণ কিশোরদের ঠোঁটে ঠোঁটে। উৎসবে আনন্দ করতে এসে কান ঝালাপালা। ফলে উৎসবে আসা মানুষের উচ্ছ্বলতায় স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় ছন্দ পতন হচ্ছে। সোমবার পহেলা বৈশাখের মেলায় সারাদিনই ছিল এমন অস্বস্তি।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের পর থেকে ভুভুজেলা এদেশে পরিচিত হয়ে ওঠে। খুব দ্রুত এটি এ দেশের নগর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে প্লাবণের মতো। এখন ব্যবসায়ীরা চীন থেকৈ আনে এসব বাঁশি।
পহেলা বৈশাখে উৎসবে আসা মানুষ রক্ষা পায়নি এ ভিনদেশী বাঁশির অত্যাচার থেকে। সারাদিন নগরীর দৃশ্যটা ছিল এমন: ভিড়ে গরমে জ্যামে অস্থির অতিষ্ট নগরবাসী পায়ে হেঁটেও শান্তি পাচ্ছে না ভুভুজেলার কর্ণবিদারী শব্দে। ভিড়ের মাঝেই একা একা, বা দল বেঁধে সমস্বরে চারপাশ কম্পিত করছে ভুভুজেলা। পাশের কারো বিরক্তি বা যন্ত্রণাকাতর মুখ এই ভুভুজেলা বাদকদের কোনো ওপর কোনো প্রভাব ফেলছে না।
শিশু বৃদ্ধ কেউ বাদ যাচ্ছে না এই উৎপীড়ন থেকে। বাধ্য হয়েই অনেকে কান চেপে ঠোঁট কামড়ে পাড়ি দিচ্ছেন পথ।
যদিও যে আফ্রিকা থেকে এর আগমন অথচ সেখানে উৎসবে প্রায়ই নিষিদ্ধ করা হয় ভুভুজেলা। তাই আনন্দপ্রিয় বাঙালি আজ চায় কর্ণপীড়ক এ বিজাতীয় যন্ত্রের লাগাম টানা হোক।
বাঙালি আবার হেসে উঠুক চৌরাসিয়ার সুরে। ডাকাতিয়া কোনো বাঁশির টানে নিরালা দুপুরে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ুক উদাস বাউল।


