মাগুরানিউজ.কমঃ

আশ্রম নয়, বিলাসবহুল বিনোদনকেন্দ্র, অস্ত্রাগার বললেও খুব একটা ভুল হবে না। আধুনিক সুইমিং পুল, ব্যক্তিগত বিলাসবহুল কক্ষ, দামীগাড়ী সবই আছে ভারতের হরিয়ানার স্বঘোষিত ধর্মগুরু রামপালের আশ্রমে।
ইঞ্জিনিয়ারের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর ধর্মগুরু বনে যান তিনি। বর্তমানে খুনের ঘটনায় কারাগারে রয়েছে তিনি। আদালতের নির্দেশে টানা দুই সপ্তাহ ধরে অভিযান চালিয়েছে বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এরপর আশ্রমের ভেতর পুলিশি অভিযানের সময় সেখানকার নানা রকমের তথ্য ওঠে আসে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ ফুট উচ্চতার দেয়ালবেষ্টিত আশ্রমটিতে প্রবেশ করা বেশ কষ্টসাধ্য। কিন্তু তারপরও পুলিশ অনেক কষ্ট করে রামপালের ব্যবহৃত পাঁচতলা ভবনে প্রবেশ করে। রামপালকে গ্রেফতারের পর তার ১২০০ একরের উপর গড়ে ওঠা সাতলোক আশ্রমে ঢুকে অবাক হয়ে যায় পুলিশ। এ সময় সুইমিং পুলসহ তালাবদ্ধ অবস্থায় বেশ কয়েকটি বিনোদন কক্ষ আবিষ্কার করে পুলিশ। ভবনের দরজা ও জানালা ভেঙে জাকজমকপূর্ণ কক্ষগুলোর সন্ধান পায়।
শুধু বিশালবহুল কক্ষ ও সুইমিংপুলই নয় সেখানেই ১৪ বছর আগে রাজ্য সরকারের বিভাগে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করা রামপালের ব্যবহার করা বিএমডব্লিউ ও মার্সিডিসসহ বেশকয়েকটি বিলাসবহুল গাড়িও সন্ধান পায় তারা। সোনারও অভাব নেই সেখানে।
শুধু বিলাসবহুল বস্তুই নেই সেখানে। রামপালের বিলাসবহুল আশ্রমে অস্ত্রেরও ছড়াছড়ি। হরিয়ানা পুলিশ সেখান থেকে ৩২টি বোর রাইফেল ও একটি পিস্তল উদ্ধার করেছে। রামপালের ‘বাবা কমান্ডো’ বাহিনীর সদস্যরা এগুলো ব্যবহার করত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আশ্রমটিতে একটি পাঠাগার, একটি হাসপাতাল ও এলইডি স্ক্রিনসহ একটি মাল্টিমিডিয়া লেকচার কক্ষও রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ৪৩ বছর বয়সী রামপাল বর্তমানে হিসারের কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ৩৫টি মামলা রয়েছে। ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত তাকে জেলে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এরপর আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন তিনি জেলে থাকবেন, না জামিন পাবেন।
তথ্যসূত্র : এনডিটিভি, জিনিউজ।


