চলতি অর্থবছর শুরুর আগের মাস জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। ২০০৫-০৬ ভিত্তি বছর ধরে পয়েন্ট টু পয়েন্টে মে মাসের তুলনায় জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। যা এর আগের মাস মে-তে ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তবে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।খাদ্যপণ্যেও মূল্যস্ফীতি সন্তোষজনক। মে মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। যা জুন মাসে কমে হয়েছে ৮ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান।মন্ত্রী বলেন, আমদানিকৃত অধিকাংশ খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে। এর মধ্যে চিনি ও অয়েল অন্যতম। যে কারণে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমেছে।
তিনি জানান, খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। মে মাসে ছিল ৫ দশমিক ১৬ ভাগ তা জুনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৫ ভাগ।
খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, রমজানের ঈদের প্রভাবে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে।
এদিকে গ্রামীণ ও শহর পর্যায়ে মূল্যস্ফীতিও কমেছে। গ্রামীণ পর্যায়ে সাধারণ পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৭৩ ভাগ, যা মে মাসে ছিল ৭ দশমিক ২৭ ভাগ। শহর পর্যায়ে জুন মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৪২ ভাগ, যা মে মাসে ছিল ৭ দশমিক ৯২
ভাগ।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, চাল, শাক-সবজি ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর মূল্য হ্রাসের কারণে মাসিক খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমেছে। এছাড়া পরিধেয় বস্ত্রাদি, বাড়ি ভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থলী, চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা উপকরণ এবং সেবা খাতের পণ্যের দাম বাড়ার কারণে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূলস্ফীতি বেড়েছে।
তবে বার্ষিক হারে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৩৫ ভাগ। অপরদিকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ৭৮ ভাগ।
মাসিক ভিত্তিক মজুরি হারও বেড়েছে। নির্মাণ , কৃষি ও মৎস খাতে মজুরি হার বেড়েছে। তবে উৎপাদন খাতে মজুরি কমেছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম, আইএমইডি সচিব সুরাইয়া বেগম, পরিসংখ্যান বিভাগের সচিব নজিবুর রহমান ও আর্থ-সামাজিক বিভাগের সদস্য আব্দুল মান্নান হাওলাদার প্রমুখ।


