মাগুরানিউজ.কমঃ
দৃষ্টি নেই, কিন্তু স্বপ্ন অনেক দূর। একেবারে পাহাড় চূড়ায়। তুষারে ঢাকা সন্দাকফুর দিকে এবার রওনা হল কলকাতা এক দৃষ্টিহীন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। প্রায় ৫০ জন ছেলেমেয়েকে নিয়ে রওনা হয়েছেন স্কুলের অধ্যক্ষ সুকুমার চক্রবর্তী। তিনি নিজেও ৯৫% দৃষ্টিহীন। এর আগেও তিনি ছেলেমেয়েদের নিয়ে পাহাড়ে গিয়েছেন। ২০ হাজার ফুট উচ্চতা ইউনাম শিখরেই হয় তাঁদের প্রথম অভিযান।
এবারের অভিযাত্রী দলে রয়েছেন জয়ন্ত সিং সর্দার। দৃষ্টিহীন এই ছাত্রটির এবারই প্রথম পাহাড়ে চড়া। শিক্ষকেরা আগেই বলে দিয়েছেন, কি কি সঙ্গে রাখতে হবে।
অচেনা আর বিপদসঙ্কুল রাস্তা। সেখানে সাধারণ মানুষ চড়তেও ভয় পান। সেখানে কিভাবে স্বচ্ছন্দে এগোবেন এঁরা? অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, “আমাদের সঙ্গে একজন এসকর্ট বা পথপ্রদর্শক থাকেন। তিনি সবসময়ে বলতে থাকেন কোথায় উঁচু, কোথায় নিচু, কোথায় চড়াই বা কোথায় পা পড়লে বিপদ হতে পারে। তাঁর কথা সম্পূর্ণভাবে মেনে চলতে হয় আমাদের নিজের মত কিছু করা যায় না।“
এক ছাত্র নিমাই দাস বলেন, “পাহাড়ে চড়ার সময়ে পাথরে হাত দিয়ে চিনে নিই আমরা। নদী বা ঝর্ণার জলের শব্দ তো শুনেই নিতে পারি আর জলে হাতও দিতে পারি। সুযোগ থাকলে গাছের গায়ে বা পাতাতেও হাত দিয়ে চিনিয়ে দেন এসকর্টরা আর কোনও অচেনা পাখি ডেকে উঠলে তাঁরাই বলে দেন ওটা কি পাখি,” বলছিলেন বিল্বমঙ্গল।
নিমাই দাস দৃষ্টিহীনদের খেলাধুলোয় বেশ পরিচিত মুখ – নিয়মিত ক্রিকেট, ফুটবল, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস আর দাবা খেলেন। তাঁর কথায় দৃষ্টিহীরাও পাহাড়ে চড়ার মতো অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসে অংশ নিতে পারেন মনের জোরে।ন


