টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি: মাগুরায় মজুমদার পরিবারের অনশন কার্যক্রম স্থগিত

মাগুরানিউজ.কমঃ

pak20141103185506bv

পাট বিক্রির পাওনা প্রায় দুই কোটি আদায়ের দাবিতে মাগুরায় এক ব্যবসায়ী তার পরিবার নিয়ে মিলগেটে অনশন করেছেন।  

শ্যামল কুমার মজুমদার নামে ওই ব্যবসায়ী তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজরাপুর নিশং জুট মিলের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করেন।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাগুরার সদর উপজেলার হাজারাপুর গ্রামে নিশং জুট মিলটি তাদের উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যেখানে বর্তমানে অন্তত ৯শত শ্রমিক কয়েকটি শিফটে কাজ করেন।

কিন্তু গত এক বছর ধরে মিল কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে মিলের শ্রমিকদের মজুরি এবং সংশ্লিষ্ট পাট ব্যবসায়ীদের বকেয়া পরিশোধের ক্ষেত্রে নানা টালবাহানা করে আসছিলেন। এর পরিপেক্ষিতে শহরের নতুন বাজারের বিশিষ্ট পাট ব্যবসায়ী শ্যামল কুমার মজুমদার তার স্ত্রী মঞ্জুরি মজুমদার এবং ছোট ভাই অসীম মজুমদারকে নিয়ে মিলের সামনে অনশন শুরু করেন।

তবে, পরিবারটির অনশন কার্যক্রম সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে মিল কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসনের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

অনশনরত পাট ব্যবসায়ী শ্যামল মজুমদার জানান, মিলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি স্থানীয় ছোট পাট ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কাছ থেকে পাট ক্রয় করে মিলটিতে সরবরাহ করে আসছিলেন। যেখানে বর্তমানে তার পাওনার পরিমাণ এক কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

কিন্তু মিল মালিক সেলিম রেজা তার বকেয়া পরিশোধ না করে গত এক বছর ধরেই লাপাত্তা। অন্যদিকে মালিকের ছেলে ফয়সাল রেজা বর্তমানে মিলটি দেখাশোনা করলেও তার বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে তার কোনো মাথা ব্যথা নেই।

অথচ দীর্ঘদিন পাওনা টাকা অনাদায়ী থাকায় তিনি ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধারদেনা করে চলতে গিয়ে তিনি নিজেও পথে বসেছেন।

অনশনে সামিল শ্যামল মজুমদারের স্ত্রী মঞ্জুরি মজুমদার জানান, মিল কর্তৃপক্ষ বকেয়া পরিশোধ না করে নানা চাতুরির আশ্রয় নিচ্ছেন। ফলে তার সংসারে এখন অত্যন্ত করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। সর্বস্ব হারিয়ে বাধ্য হয়েই তিনি সাংসারির কাজ ফেলে অনশনে নেমেছেন।

এদিকে, নিশং জুট মিল মালিক সেলিম রেজা বা তার ছেলে ছেলে ফয়সাল রেজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

তবে, মিলের জেনারেল ম্যানেজার আওলাদ হোসেন হাওলাদার জানান, শুধু শ্যামল মজুমদারই নন। আরো অনেক ব্যবসায়ীর কাছে মিল কর্তৃপক্ষ দেনা রয়েছে। কিন্তু ব্যবসা মন্দা হওয়ায় বকেয়া পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অচিরেই পরিশোধের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সর্বশেষ সন্ধ্যায় মিল কর্তৃপক্ষ আগামী তিন মাসের মধ্যে পাওনা টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলে মজুমদার পরিবার অনশন কার্যক্রম স্থগিত করেছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
%d bloggers like this: