মাগুরানিউজ.কম:
জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪-এর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর আগে গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা এই জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা অনুমোদন করা হয়।মন্ত্রিসভায় নীতিমালা অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব ওইদিন জানিয়েছিলেন, স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠনের বিধান রেখে ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা, ২০১৪’ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
তিনি জানান, কাজের ক্ষেত্রে এই কমিশন হবে স্বাধীন। সম্প্রচার নীতিমালা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠন করা হবে। পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে আইন করার কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়।
স্বাধীন এই কমিশন সম্প্রচার নীতিমালা বাস্তবায়নে কোড অব গাইডেন্স গঠন করবে। নীতিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স দেওয়ার সুপারিশও করবে কমিশন।সার্চ কমিটির মাধ্যমে সম্প্রচার কমিশনের চেয়ারম্যান বা প্রধান নির্ধারণ করা হবে। এই কমিশনে সাংবাদিক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ের শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হবে। সম্প্রচার নীতিমালা ও কমিশনের জারি করা নিয়মাবলি যথাযথভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা, তা পরিবীক্ষণ করবে এই কমিশন। সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুষ্ঠান, সংবাদ বা বিজ্ঞাপন যাতে কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়টি মনিটরিং করবে কমিশন।
সশস্ত্র বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কটাক্ষ করা যাবে না, সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কোনো বাহিনীর প্রতি কটাক্ষ করা বা অবমাননাকর দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। অপরাধীদের দণ্ড দিতে পারেন এমন সরকারি কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার মতো দৃশ্য বা বক্তব্যও প্রচার করা যাবে না। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোনো বিদ্রোহ, নৈরাজ্য, হিংসাত্মক ও বিদ্বেষমূলক ঘটনা প্রচার করা যাবে না।
নীতিমালায় বলা হয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা, ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্বত রেখে সংবাদ ও অনুষ্ঠান প্রচার করবে। সম্প্রচারে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও সামাজিক মূল্যবোধ নীতিমালায় সমুন্নত রাখতে বলা হয়েছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন সামরিক, বেসামরিক বা সরকারি তথ্য প্রচার করা যাবে না।
নীতিমালার আলোকে সম্প্রচার কমিশন এবং এ সম্পর্কিত আইন করা হবে। তবে কমিশন ও আইন না হওয়া পর্যন্ত সম্প্রচার সম্পর্কিত নীতিমালা বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। কমিশন গঠনের পর আইনের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে কাজ করবে। ঘটনা তদন্ত করে সুপারিশ করা ও আইন করে শাস্তির বিধান করা হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
নীতিমালায় এ বিষয়ে আরও বলা হয়, বেতার ও টেলিভিশনসহ সম্প্রচার মাধ্যমকে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের ভাষণসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান যথাযথভাবে প্রচার করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি সব প্রচার মাধ্যমই এই নীতিমালা মেনে চলবে।
এছাড়া বিজ্ঞাপন প্রচারে মানদণ্ড মেনে চলা এবং সংবাদ পরিবশেনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণের কথা বলেন মন্তিপরিষদ সচিব।
তিনি বলেন, কোনো জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন সংবাদ ও অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না। দুর্নীতির প্রতি সহানুভূতির সৃষ্টি হয়, এমন সংবাদ বা অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না। বিদেশি রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর কোনো সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না।
নীতিমালা অনুযায়ী, টক-শো অনুষ্ঠানে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য-উপাত্ত পরিহার করতে হবে।
আর মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা, ভাষা-সংস্কৃতি মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা, জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট, স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ, আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারিসহ জাতীয় বিভিন্ন দিবসের সংবাদ ও অনুষ্ঠান প্রচার করার মতো অনুসরণীয় বিষয় নীতিমালায় রয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।


