গামছাতে অভাব জয়

মাগুরানিউজ.কমঃ 

1_84jhj66

গামছা বুনে জীবিকা নির্বাহ করছেন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কালিনগর এলাকার তাঁতপল্লীর ৩০টি দরিদ্র পরিবারের নারীরা। স্বল্প পুঁজি দিয়ে নিজেদের উদ্যোগেই গায়ের ঘাম ঝরিয়ে গামছা বুনছেন, যা বেপারীরা তাঁতপল্লী থেকে নিয়ে পাইকারি দরে বিক্রি করছেন মাগুরার স্থানীয় হাটবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

দেখা গেছে, কালিনগর তাঁতপল্লীতে প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে গামছা তৈরির তাঁত। এসব পরিবারের বেশিরভাগই দরিদ্র। সেখানে গামছা তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন নারীরা। গামছা তৈরির জন্য একদিকে সুতায় মাড় দিয়ে রঙ মিশিয়ে চরকার মাধ্যমে সুতা প্রস্তুত করা হচ্ছে, অন্যদিকে কাঠ ও বাঁশের তৈরি তাঁতের মেশিনে বোনা হচ্ছে গামছা। মূলত সেখানে গামছা তৈরির মূল কাজটা বাড়ির মহিলারাই করে থাকেন। বাড়ির পুরুষ সদস্যরা কৃষিসহ অন্যান্য কাজ করার পাশাপাশি তাদের সহযোগিতা করে থাকে।

তাঁতপল্লীর গামছা তৈরিতে ব্যস্ত হাজেরা খাতুন, ভানু বেগম, ছবেদা খাতুনসহ অনেকে জানান, গামছা তৈরিতে ব্যাপক পরিশ্রম করতে হয় তাদের। লাভ হয় সামান্য। তবুও ঐতিহ্যবাহী তাঁতের তৈরি গামছার বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় এসব পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পেশা হিসেবে এ গামছা তৈরি ও বিক্রি করছে। সুতা ও রঙ মিলে তাঁতে একটি গামছা তৈরিতে তাদের খরচ হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকা। প্রতিটি গামছা বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকা। একটি গামছায় তাদের লাভ থাকে ২০ থেকে ৩০ টাকা।

একদিনে একটি তাঁতে চারটি গামছা তৈরি হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতিদিন ৩০টি তাঁতে ১২০টি গামছা তৈরি হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে তৈরি হচ্ছে ৮৪০টি। বর্তমানে সুতা ও রঙের দাম বেড়েছে। এ কারণে গামছা তৈরিতে খরচও বেড়ে গেছে। ২০ গোছার এক বান্ডিল সুতার দাম এখন ১ হাজার ৮০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেও এর দাম ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। স্বল্প পুঁুজি দিয়ে তারা গামছা বুনছেন। গামছা বিক্রির সামান্য টাকা দিয়ে তারা সংসারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া খরচ বহন করছেন। এ কারণে তাদের দাবি সরকারিভাবে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করলে তারা আরও ভালোভাবে গামছা তৈরি ও তা বিক্রি করে আয়-রোজগার আরও বাড়াতে পারবেন। বাসস

তারা জানান, তাদের একটি বিশেষ সুবিধা হচ্ছে গামছা বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যেতে হয় না। বেপারিরা প্রতি সপ্তাহে তাদের বাড়িতে এসে গামছাগুলো নিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে গামছা বিক্রির জন্য তাদের কোনো চিন্তা করতে হয় না।

কালিনগর তাঁতপল্লীতে গামছা কিনতে আসা বেপারি মতিয়ার রহমান ও নাসির হোসেন জানান, এখনও বাজারে তাঁতের গামছার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ কারণে এখানকার তাঁতপল্লীর নারীদের গামছা তৈরিতে সহযোগিতা করছেন তারা। এখানে তৈরি গামছা মাগুরা জেলার স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ফরিদপুর, রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে পারলে তাঁত পল্লীর নারীদের গামছা উৎপাদনের গতি আরও বাড়বে।

তাঁতপল্লীতে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, তাঁত শিল্প একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ্যের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। কালিনগর তাঁতপল্লীর উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সহজ শর্তে ঋণ দানের ব্যবস্থা করাসহ দরিদ্র এসব পরিবারের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: