মাগুরানিউজ.কমঃ
বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মিষ্টি একটা গন্ধ। ঘন সবুজ পাতার মধ্যে হালকা নীল রঙের ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে গাছ। সুন্দর এই দৃশ্য যে কাউকেই কাছে টানে। মাগুরার বিভিন্ন মাঠে মাঠে এখন শোভা পাচ্ছে ‘কালোজিরা’ নামেরএই ফসলটি। এবার চলতি রবি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে কালোজিরার চাষ করেছেন কৃষকেরা। আগে অনেকে শখের বসে কালোজিরার চাষ করতেন। এখন মাঠ জুড়ে পরিকল্পিতভাবে এ ফসলের আবাদ হচ্ছে।
মাগুরার বিভিন্ন ফসলের মাঠের এ দৃশ্য এখন সবার কাছে অতি পরিচিত। উৎপাদন খরচ কম, ব্যাপক চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে ঔষধি ও ভেষজ গুণ সম্পন্ন ‘কালোজিরার’ চাষ।
কালোজিরার ছোঁয়ায় মাগুরা সদরসহ তিনটি উপজেলার দশ সহস্রাধিক মানুষের জীবনে নতুন সম্ভাবনা জেগে উঠেছে। ‘কালোজিরা বিল্পব’ ভাগ্য ফিরিয়েছে এসব মানুষের। মাগুরানিউজকে মাগুরা আঞ্চলিক মশলা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, মাগুরা জেলায় এবার ৮৫২ হেক্টর জমিতে কালোজিরার আবাদ হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে মহম্মদপুর উপজেলায়। কৃষি বিভাগ হেক্টরে প্রায় ৩৫-৪০ মণ কালোজিরা উৎপাদনের আসা করছেন। সে হিসেবে মাগুরায় এবার তিন হাজার মণ কালোজিরা উৎপাদন হবে।
চাষিরা জানান, কার্তিক মাসের শুরু থেকে ও অগ্রহায়ণ মাসের শেষ পর্যন্ত কালোজিরা চাষের উপযুক্ত সময়। বপনের তিন থেকে চার মাস পর ফসল পাওয়া যায়। পতিত জমি কম টাকায় লিজ নিয়েও অনেকে কালোজিরার চাষ করছেন। কেউ কেউ আবার উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের এক ভাগ জমির মালিককে দিয়েও আবাদ করেছেন। কালোজিরা চাষের জন্য প্রথমবার বীজ কিনলেই চলে। পরে নিজের ক্ষেতের বীজ দিয়েই আবাদ করা যায়। রোগবালাই নেই বললেই চলে, তাই কীটনাশকের খরচ নেই। গড়ে এক বিঘা জমিতে চাষে খরচ পড়ে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকার মতো। ঐ জমি থেকে তিন থেকে চার মণ কালোজিরা পাওয়া যায়। প্রতি মণ কালোজিরা বিক্রি হয় পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার টাকায়।
দেখা গেছে, মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠগুলোয় এখন বিভিন্ন রবি শস্যের পাশাপাশি কালোজিরার চাষ হচ্ছে। এসব মাঠে কয়েক বছর আগেও নানা চৈতালি ফসল বাতাসে দোল খেত। এখন এখানে গাড়ো সবুজ রঙের কালোজিরা গাছের সমারোহ। ফল পরিপক্ক হতে শুরু করেছে। কৃষকেরা আগাম বোনা কালোজিরা কর্তন করতে শুরু করেছেন। তবে পুরোপুরি ফসল কাটা শুরু হতে আরো কিছু দিন সময় লাগবে। বাজারে প্রতি মণ কালোজিরা তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরে বাজার চাঙ্গা থাকায় এ এলাকার কৃষক কালোজিরা চাষে ঝুঁকছেন। অনেকে অন্যান্য ফসলের ক্ষেতের আইলে কালোজিরার আবাদ করে বাড়তি উপার্জন করছেন। কালোজিরার বহুমুখী ব্যবহার ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করায় কালোজিরার কদর এখন আগের চেয়ে বেশি।
মাগুরার আলোকদিয়ার পুখরিয়া গ্রামের কালোজিরা চাষি আফতাব শিকদার মাগুরানিউজকে জানান, তিনি অনেক বছর ধরে কালোজিরা চাষ করে আসছেন। আগে চাষ করতেন নিজের প্রয়োজেনে। আর এখন তিনি আবাদ করছেন সবচেয়ে লাভজনক ফসল হিসেবে।
মহম্মদপুরের বালিদিয়া ব্লকের উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম মাগুরানিউজকে বলেন, ‘কালোজিরা চাষ এ অঞ্চলের কৃষকদের কর্মমূখী করে তুলেছে। তারা ভাগ্য বদলে ফেলেছেন নিজের চেষ্টায়।’ তার ব্লকের আওতায় সহস্রাধিক কালোজিরা চাষি রয়েছেন বলে তিনি জানান।
মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম মাগুরানিউজকে বলেন, ‘এ এলাকায় প্রায় সব গ্রামে এখন ব্যাপকহারে কালোজিরা আবাদ হচ্ছে। প্রায় দশ হাজারেরও বেশি কৃষক প্রতি বছর কালোজিরা চাষে লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
মাগুরা আঞ্চলিক মশলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মাগুরানিউজকে জানান, এ এলাকায় মশলা ফসল আবাদে দিন দিন কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। লাভজনক হওয়ায় বিশেষ করে কালোজিরার ব্যাপক চাষ হচ্ছে।


