মাগুরানিউজ.কমঃ
প্রসব বেদনায় কাঁতরাচ্ছেন গৃহবধু রাসেদা বেগম (২৫)। সকালে তার প্রসব বেদনা উঠলে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য তাকে দ্রুত মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ও অ্যানেসথেসিস্ট ডা. মকসেদুল মোমিন সিজার করার জন্য দরিদ্র গৃহবধুর সঙ্গে থাকা ভাই ইয়াসিন মোল্যার কাছে তিন হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা সংগ্রহ করতে বিকেল হয়ে যায়।
অনেক ধরাধরির পর দুই হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করলে সিজরের আয়োজন করতে রাজি হন। অবশেষে বিকেল পৌনে পাঁচটায় গাইনী কনসালট্যান্ট ডা: তপন কুমার রায় সিজার করেন। রাসেদা একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।
মঙ্গলবার মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র এটি। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে প্রসূতি মায়েদের জন্য সকল সেবা দানের ব্যবস্থা থাকার কথা। কিন্তু সে সেবা তারা পাননা বলে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
রাশেদার ভাই ইয়াসিন মোল্যা বলেন, পাশ্ববর্তী ফরিদপুরের বোয়ালমারির ফুলবাড়ি গ্রামের শের আলীর সঙ্গে তার বোনের বিয়ে হয়। সন্তান প্রসবের জন্য সম্প্রতি সে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের চর পাচুড়িয়া গ্রামে বাবার বাড়ি আসে।
সকালে তার প্রসব বেদনা উঠলে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আনার পর সিজার করার জন্য ডা. মকসেদুল মোমিন তিন হাজার টাকা দাবী করেন।
তার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে তিনি সিজারের আয়োজন করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে বিকেলে ২ হাজার ৫০০ টাকা সংগ্রহ করে আনলে ওই চিকিৎসক সিজারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে ডা: মকসেদুল মোমিন বলেন, ‘টাকা নেওয়ার বিষয়টি ভিত্তিহীন। সাধারণত দুপুর একটার মধ্যে হাসপাতালে কোন প্রসূতি আসলে সিজার করা হয়। গরীব বলে বিকেল পৌনে পাঁচটায় বিশেষ ব্যবস্থায় এই রোগির সিজার করা হয়েছে।’
গাইনী কনসালট্যান্ট ডা: তপন কুমার রায় বলেন, ‘টাকা নেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।’
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সাইফুর রহমান বলে, ‘ টাকা নেয়ার কোন নিয়ম নেই। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

