মাগুরানিউজ.কম: বাজারে এবার রমজানে ব্যাপক পরিমাণে মৌসুমী ফল উঠলেও ফরমালিনমুক্ত কিনা তার নিশ্চয়তা না পাওয়ায় ক্রেতারা ফল কিনতে ভয় পাচ্ছেন।
তবে রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে ফলের বিক্রি কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ফল বিক্রেতারা।
অন্যদিকে, ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার থেকে তারা যে সব ফল কিনছেন, তা ফরমালিনমুক্ত কিনা এ নিয়ে তারা নিশ্চিত নন। তারপরেও ফলের দাম কমছে না।
সরেজমিন দেখা যায়, ফলের বাজার ছাড়াও ছোট ছোট দোকানে, বাস স্টেশনের আশপাশ, বিভিন্ন সড়কের মোড়, বিভিন্ন পাড়ার প্রবেশ পথ ও ফুটপাতে মৌসুমী ফলের পসরা বসিয়েছেন অনেক ফল বিক্রেতারা।
এ সব ফলের মধ্যে রয়েছে- আম, জাম, আনারস, কাঁঠাল, নাশপাতি, আমড়া, শরিফা, লটকন, বাঙ্গি, কামরাঙা, পেঁপে, বেদানা, অরবরই, করমচা, আমলকি, সাগরকলা ইত্যাদি। এছাড়া খেঁজুর, আপেল, মালটা, আনার, নাশপাতি, আঙুরসহ বিভিন্ন বিদেশি ফল।
বাজার ঘুরে জানা যায়, প্রতি কিলোগ্রাম আমের দাম ৪০ থেকে ৯০ টাকা, জাম ৫০ থেকে ৭০ টাকা, পেয়ারা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আনারস ৪টি ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কাঁঠালের দামও নাগালের মধ্যে রয়েছে।এছাড়া খেঁজুর প্রতি কিলোগ্রাম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, আপেল ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা, মালটা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলেন এবার ফল সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ফরমালিন আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্রেতারা মনে করছেন, সব ফলেই ফরমালিন রয়েছে। সে কারণে ফল বিক্রি হচ্ছে না।
প্রধান সড়কের পাশে এক ফলের দোকানে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফলের মধ্যে ফরমালিন আছে কিনা তা অধিকাংশ ক্রেতাই বিক্রেতার কাছে জেনে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। ক্রেতাদের প্রশ্নের জবাবে ফরমালিনমুক্ত ফল আছে বলে দাবি করে ফল বিক্রি করে চলছেন এই ফল বিক্রেতারা। পাশে ঝাঁপিতে বিক্রির উদ্দেশ্য আম নিয়ে বসেছেন এক বিক্রেতা, আমগুলো দেখতে সুন্দর ও রসালো হলেও ক্রেতারা যেন সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন। ক্রেতাদের একটাই প্রশ্ন, এই আমে কি ফরমালিন আছে?
বাজারে ফল কিনতে আসা এক ক্রেতার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সংবাদমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে, কোনো না কোনো জায়গা থেকে ফরমালিনযুক্ত ফল পাওয়া যাচ্ছে। তাই, বাজার থেকে ফল কিনতে ভয় লাগছে। তারপরও ফরমালিনমুক্ত ফল পাওয়ার চেষ্টা করছি।ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পুলিশি অভিযানে ফরমালিনযুক্ত আমসহ বিভিন্ন ফল পাওয়ার পর তা ব্যাপকভাবে সংবাদমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে।
এদিকে, যাবজ্জীবন দণ্ডের বিধান রেখে গত সোমবার ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন- ২০১৩ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হওয়ার পর তা সংসদে পাস হয়েছে।

