মাগুরানিউজ.কমঃ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছেন অনেক আগেই। এবার ক্লাব ক্রিকেটকেও বিদায় জানিয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট ব্রেট লি। তবে জীবনের শেষ ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে দারুন রোমাঞ্চ তৈরী করলেও পারেননি দলকে শিরোপা জেতাতে। বরং দলীয় অধিনায়কের এক ভুলেই হেরে যেতে হলো ব্রেট লির সিডনি সিক্সার্সকে।
ক্যানবেরার মানুকা ওভালে অস্ট্রেলিয়ান টি২০ লিগ বিগ ব্যাশের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল সিডনি সিক্সার্স আর পার্থ স্কোরচার্স। এই ম্যাচেরই একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে বেশ নাটকীয়তার পরিস্থিতি তৈরী হয়। সিডনি সিক্সার্সের করা ১৪৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে বেশ সাবলিল গতিতেই জয়ের দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল পার্থ স্কোরচার্স। কিন্তু শেষ তিন বলেই এসে জমে চরম নাটকীয় মুহূর্তটির।
ব্রেট লি ছিলেন শেষ ওভারের বোলার। শেষ তিন বলে রান প্রয়োজন মাত্র ১। এ পরিস্থিতিতে হঠাৎই ঝড় তোলেন ব্রেট লি। পর পর দুই বলে ফিরিয়ে দেন নাথান কাউল্টার নাইল এবং স্যাম হোয়াইটম্যানকে। পর পর দুই উইকেট তুলে নেওয়ার পর সম্ভাবনা তৈরী হয় সিডনি সিক্সার্সের। একই সঙ্গে ক্যারিয়ারের শেষটাও দারুন এক হ্যাটট্রিক দিয়ে সমাপ্তি টানার বিরল কৃতিত্বের সামনে দাঁড়িয়ে ব্রেট লি।
কিন্তু নিজে তো হ্যাটট্রিক করতে পারলেন না। তবে আউটের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন। মাত্র এক রান তুলতে গিয়ে রান আউটের দারুন সুযোগ তৈরী হয়েছিল। কিন্তু সিডনির অধিনায়ক মইসেস হেনরিক্সের ভুল থ্রো ইয়াসির আরাফাতকে রান আউট থেকে বাঁচিয়ে দেয় এবং শেষ মুহূর্তে পার্থ স্কোরচার্সকে ৪ উইকেটের অসাধারণ এক জয় এনে দেয়।
তার আগে ১৪৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ওপেনার শন মার্শের ৫৯ বলে ৭৩ রানের ওপর ভর করে জয়ের পথে এগিয়ে যায় পার্থ। ৩৩ রান করেন আরেক ওপেনার ক্লিঙ্গার। ২৫ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন ব্রেট লি। ২ উইকেট নেন নাথান লিওন।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে বিপদেই পড়েছিল সিডনি সিক্সার্স। ৭ রানে ২ উইকেট হারায় তারা। এরপর নিক ম্যাডিনসন আর মইসেস হেনরিক এগিয়ে নিয়ে যান সিডনিকে। ম্যাডিনসন ১৯ রান করে আউট হলেও হেনরিক খেলেন ৫৭ বলে ৭৭ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। শেষে এসে ২৫ বলে ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন রায়ান কার্টার।
ব্রেট লি শুধু গতির জন্যই বিখ্যাত ছিলেন না, বিখ্যাত ছিলেন তার নিখুঁত লাইন-লেংথের জন্যও। ম্যাকগ্রা-ব্রেট লি জুটির সামনে সব সময়ই কাঁপুনি ধরে যেতো প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের। ২০০৮ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার পর আরও চার বছর খেলেছেন ওয়ানডে ক্রিকেট। শেষ পর্যন্ত ওয়ানডেকে বিদায় বলেন ২০১২ সালে। ৭৬ টেস্টে ৩১০ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ২২১ ওয়ানডে খেলে নিয়েছেন ৩৮০ উইকেট।


