মাগুরানিউজ.কমঃ
আগামীকাল ৭ ডিসেম্বর, ২০১৪। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদারদের হাত থেকে মুক্ত হয় মাগুরা।
প্রিয় জন্মভূমিকে মুক্ত করতে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মাগুরার মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণপণ লড়াই করেন। দীর্ঘ ৯ মাসের লড়াই আর ত্যাগের বিনিময়ে শত্রুমুক্ত হয় মাগুরার মাটি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মাগুরা শ্রীপুরের আকবর বাহিনী, মহম্মদপুরের ইয়াকুব বাহিনী, মহম্মদপুর ফরিদপুর অঞ্চলের মাশরুরুল হক সিদ্দিকী কমল বাহিনী, মাগুরা শহরের খন্দকার মাজেদ বাহিনী, হাজিপুর বাহিনী এবং মুজিব বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি সেনা ও স্থানীয় রাজাকার আলবদর বাহিনীর প্রাণপণ যুদ্ধ হয়।
মাগুরার কমল বাহিনীর প্রধান মাশরুরুল হক সিদ্দিকী কোমল ভাটিয়াপাড়ায় এক সম্মুখ যুদ্ধে গুলিতে তার একটি চোখ হারান। শ্রীপুর বাহিনীর রণাঙ্গণে একের পর এক বিরোচিত অভিযান হানাদার বাহিনীকে তটস্থ করে তোলে।
শ্রীপুরের শ্রীকোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আকবর হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা শ্রীপুর বাহিনী মূলত মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুর এলাকাজুড়ে তৎপরতা চালায়।
এ বাহিনীর অব্যাহত অভিযান ও স্থানীয় গেরিলা বাহিনীর তৎপরতায় পাকিস্তানি বাহিনী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসেই মূলত মাগুরা শহর কেন্দ্রীক হয়ে পড়ে। ডিসেম্বরের শুরুতেই মাগুরাকে হানাদার মুক্ত করতে মাগুরা শহরে চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে থাকে শ্রীপুর বাহিনী।
৬ ডিসেম্বর যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিজনান্দুয়ালী গ্রাম থেকে ও বিভিন্ন পাকিস্তানি ক্যাম্পে আক্রমণ চালায়। এ দিন সারারাত নিজনান্দুয়ালী থেকে মাগুরা শহরের হানাদারের ঘাটি লক্ষ্য করে গুলি করতে করতে ভোর হয়ে যায়। পরদিন ৭ ডিসেম্বর মাগুরা শহরের সবগুলি পাকিস্তানি ক্যাম্প থেকে শত্রু বাহিনী পালিয়ে ঢাকার দিকে চলে যায়। শত্রু মুক্ত হয় মাগুরা। হানাদার মুক্ত হওয়ার আনন্দে মুক্তিকামী মানুষের ঢল নামে পুরো শহরে। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মাগুরার আকাশ বাতাস।
মাগুরার আল বদর বাহিনীর প্রধান কসাই হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত রিজু, কবির ও আইয়ুব চৌধুরীসহ আরো অনেক রাজাকার ও আলবদরদের সেই সময়কার পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড ও বিভীষিকার কথা মাগুরার মানুষের মনে এখনও জ্বলজ্বল করে।
এ সমস্ত রাজাকার আলবদর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ও কার্যক্রমে আজ সারা বাংলার মানুষ সোচ্চার হয়েছে। রাজাকারদের বিচার করে বাংলাকে কলঙ্ক মুক্ত করতে হবে। এই হোক আজকে নতুন প্রজন্মের অঙ্গীকার।
এ দিনটিকে স্মরণ করে প্রতি বছরের মতো এ বছরও জেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে শহরে র্যালি, আলোচনা সভা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননার আয়োজন করেছে।


