মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরাতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ কাজ।দেশের প্রতি জেলায় একটি করে ১২তলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ করা। মূলত টাকার অভাবেই ৬৪ জেলায় চিফ জুডিশিয়অল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ধীরগতি চলছে। ফলে প্রকল্প ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে টাকার অভাবে ২৮ জেরায় চলমান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন নির্মাণ বন্ধ হওয়ার পথে। আর নানা জটিলতায় এখনো ৩০ জেলায় ভবন নির্মাণের দরপত্রই আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ঢাকার আদালত পাড়ায় ১০তলা ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পরও এখনো কাজ শুরু হয়নি। আইন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০০৯ সালে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে ১২তলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের জন্য ‘৬৪ জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভবন নির্মাণের প্রকল্প’ হাতে নেয় হয়। আর এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয় ২০১১ সালে। দুধাপে ভাগ হওয়া এ প্রকল্পের জন্য ২০০৯ সালেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৮৭০ কোটি টাকার অনুমোদন দেয়। আর প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৩৪ জেলায় ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল এ বছরের জুনের মধ্যে। সে লক্ষ্যে ৩১ জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের কাজও শুরু হয়।
কিন্তু মামলা ও ঠিকাদার সংক্রান্ত জটিলতায় ঢাকা, বরিশাল ও মাগুরায় এখনো নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি।
নির্মাণাধীন এসব আদালত ভবনের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল ও সিলেটে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাকি ২৮ জেলায় অর্থাভাবে কাজ চলছে ধীরগতিতে। ২৮ জেলায় এ কাজ শেষ করার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সরকারের কাছে ৩শ কোটি টাকা বরাদ্দ চাইলেও দেয়া হয় ১৬৬ কোটি টাকা। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারদের পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না।
গতবছরের ২৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং দ্রুত ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করার তাগিদ দেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও নানা জটিলতায় আটকে গেছে ভবন নির্মাণ কাজ। এ পরিস্থিতিতে দেশের একাধিক সিনিয়র আইনজীবীর অভিমত হচ্ছে- ভাঙ্গা ভবনের নিচে বসে বিচারকের মন ভালো থাকে কিভাবে? এসব ভবন অপসারণ করে যতো দ্রুত সম্ভব মানসম্মত ভবন নির্মাণ করতে হবে। যাতে বিচারপ্রার্থী, বিচারক ও আইনজীবীরা আদালতের মধ্যে ভালো পরিবেশ পান। এ প্রসঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক জানান, সরকার যে সময়ে অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে সে অনুযায়ী প্রতিটি জেলায় ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। খুব দ্রুতই প্রথম ধাপের ৩৪ জেলায় কাজ শেষ হবে। কিছু জেলায় জমি অধিগ্রহণ ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় সমস্যা হচ্ছে।

