মাগুরানিউজ.কমঃ
৫ নভেম্বর বাজারে এসেছে ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের আত্মজীবনী প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে। এই আত্মজীবনী লিখতে সাড়ে তিন বছরের অধিক সময় লেগেছে। শচীনের বইয়ের সহ-লেখক হিসেবে কাজ করেছেন ক্রিকেট গবেষক, লেখক এবং ভাষ্যকার বরিয়া মজুমদার। ২০১১ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে সাড়ে তিন বছর ধরে দুজনে মিলে রচনা করেছেন দেড় লাখ শব্দের এই আত্মজীবনী। শচীনের মতো এত বিশাল এক ক্রিকেট তারকার সঙ্গে, তাকে নিয়ে এই জীবনী গ্রন্থ লেখার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বরিয়া মজুমদার। বিবিসি বাংলা থেকে রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য তার অভিজ্ঞতার বিষয়টি তুলে ধরা হলো :
বরিয়া মজুমদার বলেন, প্রধানত দুটো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। প্রথমত, শচীনের না জানা দিক খুঁজে বের করা। দ্বিতীয়ত, শচীন যেভাবে কথা বলেন, সেই ভাষা ব্যবহার করে বইটি লেখা, যাতে পাঠক বোধ করেন যাতে প্রতিটি বাক্য যেন শচীনই তাদের বলছেন।
বরিয়া মজুমদার বলেন, ‘শচীনকে নিয়ে এত বেশি কথা, এত বেশি লেখালেখি, এত বেশি আগ্রহ যে আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল কীভাবে তার জীবনকে তুলে ধরা সম্ভব যে জীবন মানুষ জানে না।’
বইটিতে এমন অন্তত ২০০ ঘটনার কথা আছে, যেটা মানুষ কখনোই জানত না। উদাহরণ হিসেবে স্ত্রী অঞ্জলির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের কথা বলেন তিনি। রক্ষণশীল পরিবার হওয়ায় প্রথম দিন অঞ্জলি শচীনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন একজন নারী সাংবাদিকের ছদ্মবেশে। দুজনে সেটা পরিকল্পনা করেছিলেন।
অঞ্জলিকে আপ্যায়ন করতে গিয়ে শচীন এতটাই নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলেন যে কিছু না পেয়ে ইংল্যান্ডে থেকে আনা দুটো চকলেট ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে তা প্লেটে সাজিয়ে অঞ্জলির সামনে হাজির করেছিলেন।
লেখক হিসেবে বরিয়া মজুমদারের আর যে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল তা হলো ভাষা। শচীন যেভাবে কথা বলেন সেই ভাষা ব্যবহার করে বইটি লেখা, যাতে পাঠক বোধ করেন প্রতিটি বাক্য যেন শচীনই তাদের বলছেন।
এ কারণে দুজনের ১৩৫ ঘণ্টার কথোপকথন রেকর্ড করা হয়েছিল। মজুমদার বলেন, ‘আমি আমার ইংরেজি লিখতে চাইনি। আমি চেয়েছি মানুষ যেভাবে টিভিতে শচীনকে কথা বলতে দেখেন, বই পড়েও যেন তারা সেই শচীনকেই উপলব্ধি করেন।’
শচীন কি কোনো কিছু গোপন করতে চেয়েছেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে বরিয়া মজুমদার বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তথ্য-প্রমাণ নেই এমন কোনো বিষয় বইতে আনব না।’
ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ তুলে মজুমদার জানান, যেহেতু শচীনের কাছে কোনো প্রমাণ নেই তাই এ প্রসঙ্গে কোনো ক্রিকেটারের নাম করা হয়নি।
বইয়ের নামকরণ কীভাবে হয়েছিল? বরিয়া মজুমদারের ভাষ্যমতে, শচীন, তিনি এবং প্রকাশক মিলে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে শেষ সিদ্ধান্ত ছিল শচীনের, তিনি পছন্দ করেছিলেন বলেই বইয়ের টাইটেল ঠিক হয় প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে।
তথ্যসূত্র : বিবিসি বাংলা


