মাগুরায় বাজারে নতুন পাট, ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না কৃষক

মাগুরানিউজ.কমঃ

images (2)পাটের বাজার ফড়িয়াদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ কৃষক। উৎপাদন ব্যয়ও উঠছে না কৃষকের, ফলে দিশেহারা তারা। ভূক্তভোগীরা জানান, সাধারণ কৃষক যখন পাট বিক্রি করেন তখন ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। পাট যখন বড় বড় মহাজনের আড়তে চলে যায়, তখন মূল্য বাড়ে। হাড়ভাঙা পরিশ্রম এবং অর্থ খরচ করে জমিতে পাট উৎপাদন করার পর ন্যায্যমূল্য না পেলে কীভাবে কৃষক পুনরায় উৎপাদনে যাবে- এই প্রশ্নও রয়েছে পাটচাষীদের। 

অনেকে ধার-দেনা করে পাট উৎপাদনের জন্য ব্যয় করেছি এখন পাওনাদারের অর্থ দিতে পারছি না। পাওনাদারের জ্বালায় ঘরেও ঘুমাতে পারছি না, বলেন মগীর পাটচাষী মতিয়ার রহমান।

তার দাবি, সরকার ন্যায্যমূল্য দিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারিভাবে পাট ক্রয় করলে সাধারণ কৃষক অবশ্যই পাটের ন্যায্যমূল্য পেত এবং পাট উৎপাদনে উৎসাহ পেত। 

পাটচাষী মতিয়ার রহমান বলেন, এক বিঘা পাট উৎপাদন করতে সাড়ে ১০ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এক বিঘা জমিতে ৬/৭ মণ পাট উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। বিক্রি করতে গিয়ে মণপ্রতি এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা পাওয়া যাচ্ছে। তাতে আসল টাকা উঠানো অসম্ভব হয়ে পরেছে। 

প্রতিবছর এভাবে লোকসান দিয়ে পাট উৎপাদন করতে হচ্ছে। প্রতিবছর এভাবে লোকসান দিলে একসময় পাট উৎপাদন করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে কৃষক, আক্ষেপ করে বলেন মতিয়ার রহমান।

শ্রীপুর উপজেলার পাটচাষী আনসার বলেন, কৃষিকাজ আমাদের আদিপেশা। প্রতিবছর ধান, পাটসহ অনেক কিছু উৎপাদন করে থাকি। তবে যেভাবে প্রতিবছর পাটে লোকসান দিতে হচ্ছে, তাতে আগামীতে কীভাবে উৎপাদন অব্যাহত রাখবো বুঝতে পারছি না।
 
তিনি বলেন, এবার ৭ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা। এর মধ্যে জমি চাষে ২৫০ টাকা করে ১ হাজার টাকা, বীজ ১০০ টাকা, সার ১ হাজার ২০০ টাকা (ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি), সেচ ২ বার ৭০০ টাকা, পরিচর্যা (৩ বার নিড়ানি বাবদ ১০ জন করে শ্রমিক প্রতি ১২০ টাকা মজুরিসহ মোট) ৩ হাজার ৬০০ টাকা, পাট কাটা বাবদ ৮০০ টাকা, ক্ষেত থেকে জলাশয়ে বহন ২ হাজার এবং আঁশ ছাড়ানো বাবদ আরও ২ হাজার টাকা খরচ হয়। সেইসঙ্গে নিজের পরিশ্রম তো আছেই। 

প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ১০ মণ করে পাটের উৎপাদন হচ্ছে। এই পাট স্থানীয় বাজারে মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ এক হাজার ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা করে। 

বিঘা প্রতি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা উঠানো সম্ভব হয়। এতে প্রতি বিঘায় প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। 

মতিয়ার রহমান ও আনসার মতো আইজদ্দিন প্রামাণিক, কুদ্দস শেখ, আলমগীর, দোবা মোল্লা, শুকুর মোল্লা, আক্কাস, মালেক, আজিম, সালামসহ সকল কৃষক একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
%d bloggers like this: