মাগুরানিউজ.কমঃ

মাগুরার বিনোদপুরের চাঞ্চল্যকর পংকজ বসু হত্যা মামলার আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্যে মামলার সাক্ষী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাগুরা প্রেসক্লাবে শনিবার দুপুরে এই অভিযোগ করে দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পংকজ বসু পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে পংকজ বসুর স্ত্রী সন্ধ্যা রাণী বসু অভিযোগ করেন, ‘নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ১৭ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে শুধুমাত্র আক্কাস আলী ও মিরাজ নামে দুজন আটক হয়েছে। এ ছাড়া অন্য আসামিদের কাউকে পুলিশ গ্রেফতারের জন্য তেমন তৎপরতা দেখায়নি। উপরন্তু দীর্ঘদিন গ্রেফতার এড়িয়ে থাকার সুযোগ নিয়ে প্রধান আসামি দাউদ হোসেন, অপর আসামি মুজিবুর রহমান, আবুল হোসেন, হাসান আলী, পিকুল হোসেন নামের আসামিরা সম্প্রতি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এসে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে।’
সংবাদ সম্মেলন সূত্রে আরো জানা যায়, আসামিরা রাতের আধারে সশস্ত্র অবস্থায় মামলার সাক্ষীদের বাড়িতে গিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্যে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ সব আসামিরা শুক্রবার স্থানীয় রাড়ীখালী বাজারে পংকজ বসুর বড় ছেলে প্রদীপ বসুকে একা পেয়ে একইভাবে হুমকি দিয়েছে। যে কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য উপস্থাপনের সময় বার বার কান্নায় ভেঙে পড়েন সন্ধ্যা রাণী বসু। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন পংকজ বসুর ছেলে প্রদীপ বসু, পংকজ বসুর বড় ভাই মামলার বাদী অশোক কুমার বসু, স্থানীয় বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হালিম শেখ, নাট্য সংগঠক রোকনুজ্জামান, পরিমল চক্রবর্তী ও সুদেব চক্রবর্তী।
উল্লেখ্য, পূর্ব বিরোধের জেরে গত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ নিজ গ্রাম বিনোদপুরের নারায়ণপুরে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে হিন্দু-বৌদ্ধ- খিস্ট্রান ঐক্য পরিষদ নেতা ও নাট্যকর্মী পংকজ বসুকে। মৃত্যুর আগে সদর হাসপাতালে পংকজ বসু নিজ মুখে হামলাকারীদের বেশ কয়েকজনের নাম পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের কাছে বলে যান। এ ঘটনায় ওই সব ব্যক্তিসহ ১৭ জনের নামে ১৪ সেপ্টেম্বর মহম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ভাই অশোক কুমার বসু।

