বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়োগে স্বতন্ত্র নির্বাচক কমিটির প্রস্তাব

ব্যাংকে নিয়োগে স্বতন্ত্র নির্বাচক কমিটির প্রস্তাব

Bangladesh+Bankআতিউরের এই প্রস্তাব সমর্থন করছেন সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ ও সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম বলেছেন, তারা এই প্রস্তাব নিয়ে ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের সঙ্গে কথা বলবেন।

২০১০ সাল থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত নিয়োগবিধি অনুসারে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সব পর্যায়ে নিয়োগ দিয়ে আসছে।

তার আগে ১৯৯৭ সাল থেকে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ হত ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটির (বিআরসি) মাধ্যমে।

যে কমিটিতে পদাধিকার বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর চেয়ারম্যান থাকতেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা সদস্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সদস্য সচিব থাকতেন।

কিন্তু সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক কোম্পানিতে রূপান্তরের পর ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর বিআরসি বিলুপ্ত হয়। কারণ কোম্পানি আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের জনবল নিয়োগের সার্বিক ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের।

এরপর থেকে ব্যাংকগুলো নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী জনবল নিয়োগ করে আসছে। আর এতে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে, যার প্রমাণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চোখেও ধরা পড়েছে। সম্প্রতি বেসিক ব্যাংকে নিয়োগ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কড়া নির্দেশনা দেয়।

এর মধ্যেই গত ২ জুন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলমকে এক চিঠিতে গভর্নর নিয়োগের বিষয়ে তার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেছেন, সরকার মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর জনবল নিয়োগে ‘উৎকর্ষতা বাড়ানো ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য’ তার এই প্রস্তাব।

গভর্নর চিঠিতে বলেছেন,“নানামুখী অনাকাঙ্ক্ষিত চাপের কারণে ব্যাংকগুলো নিজস্ব নীতিমালা প্রয়োগ করে জনবল নিয়োগ করতে পারছে না। এতে ব্যাংকগুলোতে যোগ্য জনবলের সঙ্কট হচ্ছে। যেকারণে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিচ্ছে।” আতিউরের প্রস্তাবকে সমর্থন করে সালেহ উদ্দিন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,“গভর্নর ঠিকই বলেছেন। এরকম একটি ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এটা একটা ভালো আইডিয়া। কারণ নিয়োগে অনেক ধরনের চাপ আসে।”

 

চার বছর সিআরসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা সালেহ উদ্দিনের পরামর্শ, পুরো কাজের তত্ত্বাবধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতেই রাখতে হবে।

“শুধু কমিটি করলেই হবে না, এর আনুষঙ্গিক আরো কিছু বিষয় থাকতে হবে, যেমন ব্যাংকগুলোর এইচআরডিতে বিশেষ পলিসি, বাইরের বিশেষজ্ঞ লোক ইত্যাদি।”

ইব্রাহিম খালেদ বলেন,“বর্তমান যেসব নিয়োগ হচ্ছে তা যে খুব খারাপ হচ্ছে তা আমি বলব না। তবে অনেক তদবির থাকে। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালীরা তদবির করেন।

“ব্যাংকের এমডিরা এসব তদবির সব সময় এড়িয়ে চলতে পারেন না। সেজন্য এরকম একটি কমিটি হলে তদবির কম হবে।”

গভর্নরের এই প্রস্তাবের বিষয়ে সচিব আসলাম আলম  বলেন,“আমরা এ বিষয়ে ব্যাংকগুলো ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সাথে আলোচনা করব। সবাই সম্মত হলে ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ভালো হলে অবশ্যই এরকম একটি কমিটি করা যেতে পারে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নভেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« অক্টো    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা