বিশেষ প্রতিবেদক-
সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নিজের দুর অবস্থার কথা জানিয়ে
মোবাইল ফোনে এস.এম.এস পাঠিয়ে জমিসহ পাকা ঘর পেলেন মাগুরা সদর
উপজেলার রামনগরের প্রতিবন্ধী কলেজ ছাত্র বাবু মিয়া (২২)।
মাগুরা জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম আজ শনিবার দুপুরে মাগুরা হাজরাপুর
ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় উপস্থিত থেকে প্রতিবন্ধী বাবু মিয়ার কাছে বাড়ি ও
জমির দলিল বুঝে দেন। হাজরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দুই শতক সরকারি খাস
জমিতে সেমি পাকা দুই কক্ষের টিন সেডের এই ঘরটি নির্মিত হয়েছে। বাবু
মিয়া মাগুরা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের ¯অনার্স শ্রেণীর ছাত্র।
প্রতিবন্ধী কলেজ ছাত্র বাবু মিয়া বলেন, ‘ছোট বেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর
মাকে নিয়ে নানা বাড়িতে থেকেছি। আমার কোন জায়গা জমি ছিল না। মাকে
নিয়ে কোথায় যাব কোথায় থাকবো এই চিন্তা থেকেই অনেক কষ্ট করে
প্রধানমন্ত্রীর মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে গত এপ্রিল মাসে আমার দুরাবস্থা
জানিয়ে একটি ঘর চেয়ে এস.এস.এস পাঠাই। আমার এস.এম.এসটি মাননীয়
প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাগুরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে
এই ঘর করে দেয়ার ব্যবস্থা নেন। যেটি আজ হস্তান্তরিত হলো’।
প্রতিবন্ধী বাবু মিয়া ঘর পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘায়ু কামনা করেন। আল্লাহ যেন প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনাকে সুস্থ রাখেন। তার মত অসহায় মানুষের পাশে সব সময় থাকবেন।
মা হাসনাহেনা বেগম বলেন, ‘চার সন্তানের মধ্যে বাবু সবার ছোট। ছোট
বেলা থেকে বাবু প্রতিবন্ধী। ঠিক মত কথা বলতে পারে না। আমার স্বামী মারা
যাওয়ার পর থেকে চার সন্তান নিয়ে আমি অনেক কষ্ট করেছি। আমার বাবার বাড়িতে
ছোট একটি ঘরে সেখানে সবাইকে নিয়ে বাস করা যায় না। অনেক কষ্ট করে
খেয়ে না খেয়ে আমি সন্তাদের বড় করেছি। কিন্তু তাদের কোন থাকার জায়াগা
দিতে পারিনি। শত ব্যস্ততার মাঝেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার বাবুর পাঠানো
এস.এম.এসটি পড়ে ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। এর জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে
ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ যেন তাকে দীর্ঘজীবী করে। তিনি আজীবন যেন আমাদের
মতো অসহায় মানুষের পাশে থাকতে পারেন’।
জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম বলেন, প্রতিবন্ধী বাবু মিয়া তার নিজের
অসহায়ত্বের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এস.এম.এস করেন। বাবু তার এস.এম.এসে
লিখেছিলেন,‘আমি প্রতিবন্ধী বাবু মিয়া, আমি মাকে নিয়ে ছোট বেলা
থেকে নানা বাড়িতে জীবনযাপন করছি। আমাদের কোন জমিজায়গা নেই। মা সহ
আমাদের পাঁচ সদ্যসের সংসার। একটি মাত্র ঘর। আমার একটি ঘর অতি দরকার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার একটি ঘর করে দিলে চির কৃতজ্ঞ হবো।’
জেলা প্রশাসক আরো জানান, এস.এম.এসটি পড়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নির্দেশনা
অনুযায়ী আমরা বাবু মিয়ার খোঁজ খবর নিলে অসহায়ত্বের সত্যতা মেলে। পরে
হাজরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় হাজরাপুর পুরাতন বাজার
মাগুরা-ঝিনাইদহ সড়কের পাশে দুইশতক জমিতে পাকা ঘর করে নির্মাণ করা হয়।
আজ জেলা প্রাশাসনের পক্ষ থেকে যা বাবু মিয়াকে বুঝে দেওয়া হলো।
এদিকে ঘর প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী
অফিসার ইয়াসিন কবির, হাজরাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কবির হোসেনসহ
এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ।


