সাক্ষ্য দিতে না আসায় চিকিৎসকের দণ্ড

মাগুরানিউজ.কমঃ 

বিশেষ প্রতিবেদক- 

আদালতে সাক্ষ্য দিতে না আসায় এক চিকিৎসককে দণ্ড দিয়েছেন মাগুরার একটি আদালত। সাজাপ্রাপ্ত ওই চিকিৎসকের নাম মো. মাহফুজুর রহমান। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরো সার্জারি বিভাগে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বারবার সমন ও আদেশের কপি পাঠানো হলেও সাক্ষ্য দিতে হাজির না হওয়ায় এই সরকারি কর্মকর্তাকে ২০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১৫দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারী) এ রায় দিয়েছেন মাগুরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা হয়। আদালতে উপস্থাপিত নথি অনুসারে ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী পাঁচজনের চিকিৎসা ও আহতের প্রতিবেদন দিয়েছিলেন চিকিৎসক মো. মাহফুজুর রহমান। সে সময় শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন ওই চিকিৎসক।

এমন পরিস্থিতিতে মামলা নিষ্পত্তির জন্য ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৪ বার মামলার সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়ার জন্য এই চিকিৎসককে চিঠি দেন আদালত। তিনি একবারও হাজির হননি। সবশেষ গত ১২ জানুয়ারি আদালত আদেশ অমান্য করাকে অবহেলা হিসেবে গণ্য করে কেন ওই চিকিৎসককে শাস্তি দেওয়া হবে না এই মর্মে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়েও কোনো উত্তর না পাওয়ায় সিআরপিসি ৪৮৫ এ ধারায় মাহফুজুর রহমানকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, সাক্ষী হাজির না হওয়ায় মামলা নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে ও সংশ্লিষ্ট বিচার প্রার্থীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসক একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে রাষ্ট্রের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া তাঁর দায়িত্ব। বারবার আদেশের কপি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পাঠানোর পরও আদালতে হাজির না হওয়া আদালতের আদেশের সুস্পষ্ট অবহেলা যা আইনত শাস্তিযোগ্য।

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী (এপিপি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ ধরনের মামলায় চিকিৎসকের জবানবন্দি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে মেডিকেল সার্টিফিকেট ভুক্তভোগীরা উপস্থাপন করেছেন তা সঠিক নাকি ভুয়া তা বলতে পারবেন কেবল ওই চিকিৎসক। এই সাক্ষী ছাড়া মামলার বিচার প্রার্থীদের সঠিক বিচার পাওয়ার পথ সংকীর্ণ হয়ে যাবে। তা ছাড়া এই মামলায় বাকি সব সাক্ষী গ্রহণ শেষ হয়েছে। কেবল চিকিৎসকের এই সাক্ষীর জন্য মামলাটা ঝুলে আছে। ১৪ বার সাক্ষীর দিন ধার্য হয়েছে মানে কমপক্ষে দুই বছর সময় গেছে এখানে।

এ বিষয়ে চিকিৎসক মাহফুজুর রহমান মুঠোফোনে গণমাধ্যমে বলেন, ‘বর্তমান কর্মস্থল ঢাকা মেডিকেলে থাকতে আমি এক বা দুবার চিঠি পেয়েছি। কিন্তু ওই চিঠি আমার হাতে পৌঁছেছে আদালতে হাজির হওয়ার নির্ধারিত দিনের পরে। যেহেতু আদালতে নির্ধারিত দিনেই হাজির হতে হয় তাই সে সুযোগ আমি পাইনি।’

মাগুরার সিভিল সার্জন চিকিৎসক প্রদীপ কুমার সাহা জানিয়েছেন, আদালত থেকে এ ধরনের চিঠি যখন আসে সাধারণত আমরা ওই কর্মকর্তা কর্মচারীর বর্তমান কর্মস্থলে পাঠিয়ে দিই। এ ক্ষেত্রেও সেটাই হওয়ার কথা।

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: