মাগুরানিউজ.কম:
আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের সেরা। আমাদের সবার দিকে খেয়াল রাখেন তিনি। আমাকে পাকা বাড়ি বানিয়ে দিয়েছেন আর প্রতি মাসে ভাতা পাচ্ছি। আমি খুবই আনন্দিত। কথাগুলো যুদ্ধ সাহসিকা (বীরাঙ্গনা) মাগুরার লাইলি বেগমের।
লাইলি বলেন, ‘আগে আমি নিজেকে সান্ত্বনা দিতাম এইভাবে যে, আমি আমার মহামূল্যবান সম্পদের বিনিময়ে আর কিছুই না হোক, আমার দেশের স্বাধীনতা তো পেয়েছি। কিন্তু আজ আমি খুবই খুশি যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করেছেন। তিনি আমাকে শুধু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতিই দেননি। আমিসহ আমার পরিবারের জন্য একটি সুন্দর বাড়িও উপহার দিয়েছেন।
মাগুরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ আট লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা ল্যাট্রিনসহ তিন কক্ষ বিশিষ্ট লাল সবুজের বাড়িটি ইতিমধ্যেই তার কাছে হস্তান্তর করেছে।
কথা প্রসঙ্গে লাইলি বললেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর জন্য সব সময় দোয়া করি, তাঁর হাতেই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ সঠিক পথে চলছে। আমি এখন আর আগের মতো কষ্টে দিন কাটাই না। ভালো একটি বাড়িতে থাকি। প্রতি মাসের ১০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছি। সবকিছু মিলিয়ে বলতেই হবে ভালো আছি।
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আর সরকারের দেয়া পাকা বাড়ি পাওয়ায় দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে জমে থাকা বুকের ভেতরের চাপা ব্যথা কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে এই বীরাঙ্গনার। স্বাধীনতার জন্য তাঁর চরম ত্যাগের বিনিময়ে দেশের মাটি শত্রুমুক্ত হলেও বছরের পর বছর অবহেলা আর অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছেন তিনি। এমনকি নিজের বাবা-মা পর্যন্ত কোনোদিন খবর নেয়নি।
তবে বর্তমান সরকার তাঁর ত্যাগের মূল্যায়ন করায় তিনি আনন্দিত। এখন তিনি গর্ব অনুভব করেন। তবে স্থানীয় দালাল রাজাকারদের বিচার এখনও না হওয়ায় তার মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
আলাপচারিতায় খানিকটা সুখানুভূতি প্রকাশ করেন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী লাইলি বেগম। দেশ এবং জাতির জন্য তার যে চরম ত্যাগ তা অনেক দেরিতে হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়িত হয়েছে এতে তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হারানোর ব্যথা অনেকাংশেই দূর হয়েছে বলেও জানালেন তিনি। রাষ্ট্র শুধু যে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতিসহ ১০ হাজার টাকা ভাতা দিয়ে তার জীবনকে অনেকটা স্বচ্ছল করে দিয়েছে তাই নয়, বর্তমান সরকারের ’বীর নিবাস’ প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি পাকা বাড়ি তৈরি করে দিয়ে মাথা গোজার ঠাঁই করে দিয়েছে। যা তার জীবনের কষ্ট অনেকটাই ভুলিয়ে দিয়েছে।


