মাগুরানিউজ.কম:
আর্সেনিক বিষক্রিয়া, দক্ষিণ আর দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের এক অভিশাপ। আর্সেনিকের ভয়ানক ছোবলে কারো নেই হাত, কারো বা পা, আবার অনেকেই বিকলাঙ্গ কিংবা অসুস্থ।গত ১২ বছরে কেবল মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামেই এ রোগে মারা গেছেন ১১ জন।
আক্রান্তদের কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে গেলেও, মৃত্যু ভয় কাটছে না এলাকাবাসীর। এমন অবস্থায় সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই অসহায় এসব মানুষদের জন্য।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রাম। আর দশটি গ্রামের মতই সবুজ এর প্রকৃতি, তবে আর্সেনিক নামের ভয়ানক বিষ যেন অভিশাপ হয়ে এসেছে এখানে।
এ গ্রামের মুন্সী পাড়ার বাসিন্দা প্রভাতী বিবি। ১০ বছর আগে আর্সেনি আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার ভাসুর সবুর মুন্সি। এর এক বছরের মাথায় মারা গেছেন ননদ রিজিয়া। আর্সেনিক আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। গেলবছর শীতে মারা গেছেন স্বামী শহীদ মুন্সী।
ভানুমতির মত হোগলডাঙ্গা গ্রামের আর্সেনিক আক্রান্ত আরো অন্তত ১৫ জন। যাদের অনেকেই হারিয়েছেন নিকট আত্নীয়দের। চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত অনেকে আবার, বেঁচে থাকার শেষ স্বপ্নটাও ছেড়ে দিয়েছেন।
আর্সেনিক আক্রান্ত রোগিদের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে কিছু ওষুধ সরবরাহ করা হলেও গত দু’বছর তাও বন্ধ। তবে আক্রান্ত রোগিদের অন্যান্য চিকিৎসা চলছে জানালেন ডা. এফ বি এম আবদুল লতিফ, সিভিল সার্জন, মাগুরা।
জনস্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, গ্রামের অসহায় এসব মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের পক্ষ থেকেও নেই কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।
শ্রীপুর উপজেলার হোগলডাঙ্গা নয়, আর্সেনিকের প্রকোপ রয়েছে কাজলি, কমলাপুর এবং শালিখা উপজেলর সেওজগাতি গ্রামেও। এলাকাবাসী বলছেন, এসব এলাকায় সুপেয় ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে, তারাও হয়ত স্বপ্ন দেখতে পারবেন দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার।
প্রভাতী বিবিদের কান্না থামে না অজানা ভয়ে। যে পানি জীবন বাচায়, সে পানিই তাদের বেচে থাকার আতঙ্ক। তবুও তাদের জীবনের জন্য নিত্য যেতে হয় এ পানির সংস্পর্শে। ফলে বাড়ছে সংক্রামন। প্রায় ২ দশক ধরে আর্সেনিক নিয়ে আলোচনা, তবে কারো যেন মনে নেই ভানুমতিদের কথা। বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার চারিদিকে। এলাকার মানুষকে পানের জন্য ছুটতে হয় নদীতে। কিন্তু সেই পানি পানের উপযোগী নয়।

