মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার মহম্মদপুরে ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্র অনুযায়ী যাচাই-বাছাই কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সর্বশেষ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সপক্ষে সঠিক কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কমিটি ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উপজেলায় ৪২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতাসহ আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু মহম্মদপুর উপজেলা কমিটি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী দুই দফা যাচাই-বাচায়ের সঠিক কাগজপত্র না পাওয়ায় ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধার ভাতাসহ আনুষঙ্গিক সব সুযোগ-সুবিধা স্থগিত করেছেন।
ওই ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধা এ পর্যন্ত সম্মানী ভাতাসহ আনুষঙ্গিক উত্তোলন করেছেন ৫১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা বিতরণের সপক্ষে প্রমাণসমূহ যাচাই-বাছাইয়ে ভাতা বিতরণ করে মন্ত্রণালয়কে অবহিতকরণের নিমিত্তে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক পরিপত্র জারি করে। সে অনুযায়ী প্রকৃত ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধা ও নতুনভাবে মুক্তিযোদ্ধায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে তথ্যাদি প্রমাণ হিসেবে সনদ, গেজেট, জন্মসনদ, মুক্তিবার্তা-ভারতীয় তালিকাসহ কাগজপত্র জেলা প্রশাসক সংগ্রহপূর্বক জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্ত্বাবধানে কমিটি গঠন করতে হবে। উপজেলা কমিটিতে পদাধিকারবলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমিটির সভাপতি ও সমাজসেবা অফিসার সদস্য সচিব থাকবেন। বাকি তিনজন যথাক্রমে থাকবে, সংসদ সদস্যের মনোনীত একজন মুক্তিযোদ্ধা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের মনোনীত একজন মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
সম্মানী ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যাদের নাম মুক্তিবার্তা চূড়ান্ত তালিকায় (মুক্তিযোদ্ধা লাল বই) অন্তর্ভুক্তি আছে। ভারতীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্তি, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত বাংলাদেশ মক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল থেকে সনদধারী মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে যাদের নামে মুক্তিযোদ্ধা সাময়িক সনদ ইস্যু করা হয়েছে ও মন্ত্রণালয় কর্তৃক যাদের নামে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তবে নাম ঠিকানার সঙ্গে সাময়িক সনদ ও গেজেটের মিল থাকতে হবে। মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা বিতরণের ক্ষেত্রে আরো কিছু বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন কারণে যদি কারো নামের বানানে ই-কার, ঈ-কার, মৃত্যু/ মরহুম, মিয়া/মিঞা, সৈয়দ/ছৈয়দ ইত্যাদি কারণিক ভুল হিসেবে বিবেচ্য হবে। বয়সের ক্ষেত্রে ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধার বয়স ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তারিখে ন্যূনতম ১৩ বছর হতে হবে। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে এসএসসি সনদকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। এসএসসি সনদ না থাকলে সে ক্ষেত্রে পাসপোর্টের বয়স বিবেচনায় আনতে হবে অথবা নির্ধারিত ফরমে জন্ম সনদ ও এনআইডি মিলিয়ে বয়সের বিষয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এসব বিষয় আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই কমিটিকে একটি পরিপত্র জারি করে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী মহম্মদপুর উপজেলা কমিটি দুই দফা যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলা ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধার ভাতা স্থগিত করেন। তাদের উত্তোলন এ পর্যন্ত ৫১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তবে তাদের উত্তোলনকৃত টাকা ফেরত দিতে হবে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য আলী রেজা খোকন বলেন, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র মোতাবেক কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাদের সম্মানী ভাতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ও যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব তাহেরা জেসমিন জানান, পরিপত্র অনুযায়ী ৪৩ জনের সম্মানী ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি মো. শাহীন হোসেন এ বিষয়ে বলেন, মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।


