মাগুরানিউজ.কম:
সড়ক দুর্ঘটনা নয় হত্যা। খুনের দায় শিকার করে আদালতে আসামীর স্বীকারোক্তির মধ্যে দিয়ে মাগুরার চাঞ্চল্যকর স্কুল শিক্ষক রুহুল আমিন হত্যা মামলার জট খুলে গেল। মামলা দায়েরের ৬ ঘন্টার মধ্যে আসামী গ্রেফতার ও ২৪ ঘন্টার মধ্যে খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে আসামীর স্বীকারোক্তি। হত্যা মামলা থেকে রেহায় পেলেন নিরাপরাধ ১২ ব্যক্তি।
মাগুরা সদর থানার এসআই ও রুহুল আমিন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকতা তরিকুল ইসলাম জানান, গত বুধবার সকালে সদর থানা পুলিশ মাগুরা-ঝিনাইদহ সড়কের মাগুরা পুলিশ লাইন সাজিয়াড়া এলাকার বাসিন্দা সদরের গৌরিচরণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন (৬৫)-এর মৃতদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে নিহতের পরিবারের সদস্যরা জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে স্থানীয় প্রতিপক্ষরা রুহুল আমিনকে হত্যা করতে পারে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।
তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার সকালে ১৩ জনের নামে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। যে মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী রেহানা বেগম।
জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ্ নিহতের পরিবারের অভিযোগ আমলে নিয়ে ও পুনরায় সুরতহাল রিপোর্ট পর্যালোচনা করে একটি হত্যা হিসেবে মাথায় নিয়ে তদন্তে নামেন। এরপর এজাহারভুক্ত আসামীদের ব্যক্তিগত চালচলন, চলাফেরা, জীবনযাপন, মেলামেশা পর্যবেক্ষ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলার ৮ নং আসামী সাবেক পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরোয়ারের পুত্র মাছুদকে সম্ভব্য খুনি হিসেবে টার্গেট করেন। এরপর দুপরে তাকে শহরের স্টেডিয়াম এলাকা থেকে আটক করেন।
পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে মাছুদ জানায়, পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে শিক্ষক রুহুল আমিন পূর্বে তাকে মামলা দিয়ে হাজত খাটিয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে মাছুদ তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
ঘটনার দিন খুব সকালে গুড়ি, গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে রুহুল আমিন মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় রাস্তায় লোকজন না থাকায় মাছুদ লোহার রড় দিয়ে রুহুল আমিনের মাথার পেছন আঘাত করে। এসময় রুহুল আমিন রাস্তার উপর লুটিয়ে পড়লে সে পালিয়ে যায়। হাইওয়ে সড়কে লাশ পড়ে থাকায় স্থানীয়রা ও পুলিশ এটিকে সড়ক দুঘটনা হিসেবে ধরে নেয়।
মাছুদ মাগুরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সম্পা বসুর আদালতে ঘটনার বর্ননা দিয়ে ও একাই এই হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে। আর এর মাধ্যমে মামলা দায়েরের মাত্র ৬ ঘন্টার মধ্যে আসামী গ্রেপ্তার ও ২৪ ঘন্টার মধ্যে ক্লুলেস একটি হত্যার রহস্য উন্মোচিত হলো। আর হত্যা মামলা থেকে রেহায় পেলো ১২ নিরাপরাধ ব্যাক্তি।


