মাগুরানিউজ.কম:
কয়েক দিন ধরে গুঞ্জন চলছিল আসন্ন এইচ.এস.সি পরীক্ষা ২০১৬ -তে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করতে পারবে না। কিন্তু আজ দেখা গেল সংখ্যাটা তার চেয়ে বেশী। বাণিজ্য বিভাগের কিছু অংশ এবং মানবিক বিভাগের সম্পুর্ন। এ নিয়ে মোট ২০৫ জন শিক্ষার্থী এবারের এইচ.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারবে না। এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে মূল্যবান একটি বছর।
নিবন্ধন জনিত সমস্যার বেড়াজালে আবদ্ধ আলোকদিয়ার অমরেশ বসু কলেজের এ সমস্যা নতুন নয়। এবছর একই সমস্যা নিয়ে মুখোমুখি হতে হলো তিন-তিন বার। অর্থাৎ একই বিষয়ে হ্যাট্টিকও করলো এই কলেজ।
বঞ্চিত শিক্ষর্থীরা আজ বেলা ১ টার দিকে অধ্যক্ষের রুমে এবং বাসভবনে ভাংচুর চালায়। অন্য শিক্ষক শ্যামল কুমারকে (প্রধান ক্লার্কের চাচা) রুমের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখা দিলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। মাগুরা সদর থানার ওসি ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
নিবন্ধন হবে কিনা শিক্ষার্থীদের এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ মোস্তফা ফারুক আহম্মেদ শিক্ষার্থীদের জানিয়েছেন, “আগামী ১১ই নভেম্বরের মধ্যে যদি হয় তবে পরীক্ষা দিতে পারবে নতুবা এ বছর সম্ভব না”।
এদিকে এঘটনায় বগিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আনিস উদ্দিন দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে শংকা প্রকাশ করে অধ্যক্ষকে বিষয়টি সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে পরিক্ষার্থীদের মূল্যবান একটি বছর নষ্ট না হয়।
মাগুরার সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ ঘটনার তিব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
কলেজের কতিপয় শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে প্রধান কর্তৃপক্ষের অবহেলার কথা জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা জানায়, অধ্যক্ষের অবহেলা এবং একই সাথে প্রধান ক্লার্ক শ্রী অনিমেষ এবং শ্যামল কুমার এই সমস্যার জন্য দায়ি। তারা দায়ি ব্যক্তিদের শাস্তি ও তাদের পদত্যাগ দাবি করে এবং একই সাথে পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সকল ব্যবস্থা করার দাবি জানায়।
শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি তারা যেনো এবছর নিবন্ধন থেকে তারা বাদ না পড়ে।
বারবার চেষ্টা করা সত্বেও এ ব্যাপারে কলেজ কতৃপক্ষের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

