১৬ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম জয়

মাগুরানিউজ.কমঃ

0b939e86e0e257f6e4e116afe4391234-Romman-Sabeer-after-his-century-6

১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৫। ১৬ বছর? মনে হয় কত যুগ। কত কিছুই বদলে এই দেড় দশকে। কিন্তু পাল্টায়নি একটি ছবি। ‘পাকিস্তান’ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কাছে অবধ্য হয়েই ছিল। কোনো ধরনের ক্রিকেটেই পাকিস্তানকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। সেই পাকিস্তানকে আজ ১ উইকেটে হারিয়ে দিল বিসিবি একাদশ। হোক না প্রস্তুতি ম্যাচ। কিন্তু এই ম্যাচে কুড়িয়ে পাওয়া আত্মবিশ্বাস সাকিব আল হাসানের সেই উক্তিটাকে আরও জ্বলজ্বলে করে তুলবে, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরাই ফেবারিট।’

১ উইকেটের জয়, বল বাকি ছিল মাত্র সাতটি। শেষ দুটো উইকেট জুটি ৪২ রানের জোগান দিয়েছে। এসবই বলে দিচ্ছে কতটা নাটকীয়ভাবে আজ ফতুল্লায় জিতেছে বিসিবি একাদশ। ৯ রানেই ফিরলেন দুই ওপেনার। ৮১ রানে নেই প্রথম ৪ উইকেট। এটাও বলছে, লোয়ার মিডল অর্ডার আর লোয়ার অর্ডার আজ ছিটকে পড়া একটা ম্যাচেই কীভাবে এনে দিয়েছে জয়। এটাও কি আসল লড়াইয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোতে প্রেরণা হয়ে আসবে না?

দলের এমন বিপর্যয়ে বুক চিতিয়ে লড়লেন সাব্বির রহমান। করলেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। চারে নেমে সাব্বিরের ৯৯ বলে ১২৩ রানের ইনিংসটার পরও জয়টা ফসকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সেটা হাতের নাগালে এনে দিলেন সোহাগ গাজী (২৮ বলে ৩৬)। মাত্র ১২ করেছেন, সেটাও ১৯ বলে; কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় দশে নামা শহীদের ইনিংসটাও কম অমূল্য মনে হচ্ছে না। ৯ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ১০ রান দরকার ছিল বাংলাদেশ। ১০ রানও তখন মনে হচ্ছিল অনেক দূরের পথ। শহীদই সেই পথটা পাড়ি দিয়েছেন হাল ধরে, শেষ ব্যাটসম্যান তাইজুল যেন কষে বাঁধছিলেন পাল!
নর্দাম্পটনের সঙ্গে কোনো মতেই তুলনা চলে না। তবে নিঃসন্দেহে এ জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস নিয়ে যাবে আরও ওপরে।

এমনিতে দলের চাহিদা মেনে সাধারণত ছয় বা সাতে নামতে হয় সাব্বিরকে। যখন বল-সময় কোনটাই পর্যাপ্ত থাকে না। এদিন নেমেছিলেন চারে। বিপর্যয়ের ভাবনা সরিয়ে রেখে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন শুরু থেকেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে না পেলেও আজ করলেন সেঞ্চুরি। ইমরুল কায়েসকে নিয়ে পঞ্চম উইকেট ১১৪ বলে ১২৪ রানের জুটি। প্রাথমিক ধাক্কা সামলাল এই জুটিই।

এর পর আবার ছন্দপতন। মাত্র ২৩ রানের ব্যবধানে পড়ল ৪ উইকেট। ২৫ বলের মধ্যে ফিরলেন ইমরুল, সাব্বির, শুভাগত আর মুক্তার। সাব্বির তাঁর কাজটা করে গেছেন। ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন ৭ চার, ৮ ছয়ে। তবে শেষ মুহূর্তে খেলা জমিয়ে তোলেন সোহাগ গাজী। সোহাগের পরিস্থিতির দাবি মেটানো ইনিংসটাই জয়ের স্বপ্ন উজ্জ্বল করে বিসিবি একাদশের । নবম উইকেটে সোহাগ-মোহাম্মদ শহিদ ৩২ বলে করে ৩১ রান। সোহাগ ফেরার পর তুলির শেষ আঁচড় দিয়ে দেয় শহিদ-তাইজুলের অবিচ্ছিন্ন শেষ উইকেট জুটি।

দারুণ জয়। স্মরণীয়ও। কিন্তু তবুও ম্যাচে একটা আক্ষেপ থেকে গেল। বিশ্বকাপ থেকে বয়ে বেড়ানো ওপেনিংয়ের রোগটা যে সারছেই না। জুনায়েদ খানের বলে কোনো রান না করেই ফিরেছেন জাতীয় দলে সদ্য সুযোগ পাওয়া রনি তালুকদার। অপর ওপেনার তামিম ইকবালের ব্যাটে আবারও রান-খরা। রাহাত আলীর বলে এলবিডব্লু হওয়ার আগে করলেন মোটে ৯ রান।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে বেশ বিপর্যয় পড়লেও শেষ দিকে ফাওয়াদ আলমের দারুণ ফিফটিতে লড়াইয়ের পুঁজি পায় পাকিস্তান। নির্ধারিত ৫০ ওভারে সফরকারীদের সংগ্রহ ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৬৮ রান। ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজের ফিফটির পর পাকিস্তানকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন মূলত ফাওয়াদ। এ বাঁহাতি করেন অপরাজিত ৬৭ রান। ২২৮ রানে ৯ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর শেষ উইকেটে সাঈদ আজমলকে নিয়ে ২২ বলে ৪০ রানের ঝোড়ো জুটির কল্যাণে লড়াইয়ের সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। সর্বোচ্চ ৮৫ রান আসে হাফিজের ব্যাট থেকে। সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন অফস্পিনার শুভাগত।

বিশ্বকাপের দারুণ পারফরম্যান্সের স্মৃতি তো আছেই। সঙ্গে যোগ হলো প্রস্তুতি ম্যাচের জয়ের সুখস্মৃতি। তবে কি দুর্দান্ত কিছুই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য?

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: