মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা-১ আসনের সদস্য সিরাজুল আকবরের মৃত্যুকে দেশের জন্য বিরাট ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, দেশে একটি প্রতিকূল অবস্থা চলছে। যখন একটি দল ও জোট জ্বালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে শিশুদের জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারছে। ঠিক সেই সময় ডা. সিরাজুল আকবরের মতো একজন বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসক হারালাম আমরা। তার মৃত্যুতে শিশুরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জাতীয় সংসদে সদ্য প্রয়াত এমপি সিরাজুল আকবরের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তাকে যতবার মনোনয়ন দিয়েছি, ততবারই তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মাগুরাবাসীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, এই মহৎ চিকিৎসককে হারানোর মধ্য দিয়ে শিশুরা একজন সেবক হারালো। তিনি (সিরাজুল আকবর) বিনা পয়সায় শিশুদের চিকিৎসা করেছেন। তার কাছ থেকে টাকার অভাবে কাউকে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হয়নি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তাকে দু’বার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান করেছিলাম। তিনি (সিরাজুল আকবর) দায়িত্ব নেওয়ার পর রেড ক্রিসেন্টকে দুর্নীতি অনিয়ম থেকে মুক্ত করে এ সংস্থার মর্যাদা ফিরিয়ে এনেছেন। রেড ক্রিসেন্টের দায়িত্ব জনসেবা করা, সেটা তিনি প্রতিস্থাপন করেছেন।
ডা. সিরাজুল আকবরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মেয়ে পুতুলের মেয়একও (নাতনী) তিনি চিকিৎসা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মৃত্যুতে জাতি একজন দক্ষ শিশু বিশেষজ্ঞ হারিয়েছে। আর আওয়ামী লীগ হারিয়েছে একজন নিবেদিত প্রাণ রাজনীতিককে। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরেও মানুষের চিকিৎসা দিয়ে গেছেন। নেতা হয়েছেন বলে তিনি কখনো চিকিৎসায় অবহেলা করেননি।
শোক প্রস্তাবের আলোচনকালে তিনি আরও বলেন, সোমবার ৯ মার্চ যখন বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আমাদের ক্রিকেট দল কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করলো। আমার সবাই যখন আনন্দে আত্মহারা ঠিক সেই মুহূর্তে শুনতে পেলাম সিরাজুল আকবর আর নেই। এটা সত্যিই খুব বেদনাদায়ক।
শোক প্রস্তাব আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, সিরাজুল আকবর একজন অসাধারণ ব্যক্তি ছিলেন। আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি একদিকে ছিলেন রাজনীতিবিদ অন্যদিকে চিকিৎসক। এভাবেই তিনি মানুষের সেবা করে গেছেন। আজ এমন একজন মানুষকে আমরা হারিয়েছি।
আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সরকার দলীয় সদস্য মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, হাবিবে মিল্লাত, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, কামরুন লায়লা জলি, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, মো. রুস্তম আলী ফরাজী, খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।
আলোচনা শেষে সংসদে সর্ব সম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাবটি সংসদে গৃহীত হয়। এরপরেই ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া সংসদের বৈঠক মুলতবি ঘোষণা করেন।


