দেশের মানুষকে মানব সম্পদে পরিণত করার একমাত্র উপায় হলো শিক্ষা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার সবার মধ্যে শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা ছড়িয়ে দিতে চায়।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবার মধ্যে শিক্ষার সুযোগ ও সুবিধা ছড়িয়ে দিতে চাই। আমরা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, সুদক্ষ ও মূল্যবোধসম্পন্ন দেশপ্রেমিক এবং সৃজনশীল নতুন প্রজন্ম গড়ে তুরতে আগ্রহী।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে লক্ষ্য পূরণের জন্য বিশ্বের সংগে তাল মিলিয়ে সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়েছে এবং যুগোপযোগী শিক্ষা নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী আজ বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সন্মেলন কেন্দ্রে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ ২০১৪ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন। দেশ সেরা ১২ জন সৃজনশীল মেধাবী এখানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহন করেন।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন। দেশ সেরা ১২ মেধাবীর মধ্যে অদিতি বড়–য়া এবং আল মুহিত মুকতাদি তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী ১২ মেধাবীর হাতে পুরস্কার হিসাবে পদক, সনদ এবং প্রত্যেককে একলাখ টাকার চেক প্রদান করেন।
বারো মেধাবী হলেনÑ সিরাতল মোস্তাকিম শ্রাবণী (রাজউক উত্তরা মডেল হাইস্কুল), অনিকা তাবাস্সুম (হলিক্রস গার্লস হাই স্কুল), পুস্পিতা বিশ্বাস (কাফকো স্কুল এন্ড কলেজ, চট্রগ্রাম), আল মুহিত মুহতাদি (পীরগঞ্জ সরকারী হাই স্কুল ), আবরার প্রমিতি মল্লিক (নড়াইল সরকারী বালিকা বিদ্যালয় ), ফাহিমা সুলতানা (জিনজিরা পীর মোহান্মদ পাইলট স্কুল , ঢাকা ) জোবায়ের রহমান নির্ঝর ( আনন্দ সরকারী হাই স্কুল), আফিয়া আনজুম জামান জেবা (কুািষ্টয়া সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়), অদিতি বড়–য়া (হলিক্রস কলেজ, ঢাকা), শাহজাদী নওরীন হক (ফজিলাতুন্নেসা সরকারী গার্লস কলেজ, বরিশাল ), ফাহিম শাহরিয়ার সাক্ষর (নটরডাম কলেজ , ঢাকা) এবং সুমাইয়া ইসলাম ( ঢাকা ক্যান্টনম্যান্ট গার্লস পাবলিক কলেজ)।
পরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে মেধাবী হিসাবে বিজয়ী ৮৪ জনের প্রত্যেকের হাতে পদক, সার্টিফিকেট এবং ৫ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড তুলে দেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ২০১৪-এর আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে মোট ২লাখ প্রতিযোগী অংশগ্রহন করে। বিভিন্ন স্তরে মোট সাত হাজার মেধাবীকে ইতোপূর্বে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে ৯৬ জন প্রতিযোগী অংশ গ্রহন করে। এর মধ্যে ১২ জন দেশ সেরা সৃজনশীল মেধাবী হিসাবে বিজয়ী হয়।
শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন করেছি, যা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ও সমাদৃত হয়েছে। বর্তমানে এর বাস্তবায়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, গত ৫ বছরে বিনামূল্যে ৯২ কোটি পাঠ্যপুস্তক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। চলতি বছর শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩১ কোটি ১৯ লাখ বই বিতরণ করা হয়েছে। বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের সকল শিক্ষার্থীর হাতে উৎসবের মাধ্যমে নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন আগামীদিনের মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ সকল ক্ষেত্রেই সঠিক কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজন সৃজনশীল ও মেধাবী নেতৃত্ব এবং সৃষ্টিশীল মেধাবী মানুষ।
‘দেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও শক্তি নিহিত রয়েছে বর্তমান শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নবীনদের সঠিক পথের স্বপ্ন দেখানো ও সুন্দর আগামীর প্রেরণায় উজ্জীবিত করা গেলে আমাদের সোনালী স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল একটি সুশিক্ষিত জাতি গঠনের মাধ্যমে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা। তিনি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। স্বাধীন দেশের উপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য কমিশন গঠন করেছিলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেছিলেন।

