মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা জেলাজুড়ে এখন আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। মৌমাছিরা এখন আমবাগানগুলোতে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত।
গত বছর আবহাওয়ার কারণে আমচাষী ও আগাম আমবাগান ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবার মুকুলের ভারেই আমগাছের ডাল নুইয়ে পড়ছে। চলতি মৌসুমে যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে তাহলে এবার মগুরা জেলায় ১০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে।
জেলার কৃষকরা কৃষি উৎপাদনে একের পর এক লোকসানের মুখে পড়ায় গত একযুগ ধরে নতুন নতুন আম ও লিচু বাগান তৈরি হচ্ছে। নতুন পুরাতন মিলে এবার সব বাগানেই মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে আমগাছ।
এখন আমচাষীরা মুকুল যাতে কুয়াশা ও পোকার আক্রমণে নষ্ট না হয় এজন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ স্প্রে করে চলেছেন। মাটি ও আবহাওয়াগত কারণেই মাগুরা জেলার আমের খ্যাতি প্রাচীনকাল থেকে।
আম ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, তার মতো অনেকেই ঢাকার কারওয়ান বাজারের আম ব্যবসায়ীদের টাকায় আগাম আমের বাগান কিনে থাকেন। সেসব বাগানের আম কারওয়ান বাজারের মহাজনের কাছে বিক্রি করেন। এবারও তিনি ঢাকার ব্যবসায়ীদের টাকায় কয়েকটি বাগান কিনেছেন বলে জানান।
গত তিন-চার বছর আগেও আমের অফ ইয়ার অন ইয়ার ছিল। যে বাগানে একবছর আম ধরেছে, পরের বছর সেই বাগানে আম ধরত না। এখন বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগের ফলে প্রতিটি বছরই আমের অন ইয়ার হচ্ছে।
মুকুল আসার আগেই বাগান বিক্রি হয়ে যায়। এবারও ব্যাপক মুকুল আসার কারণে বাগানগুলোর দাম বেশি হাঁকছে মালিকরা। বাগান কেনাবেচা করা এমন একজন জেলা শহরের সহোরফ হোসেন। তিনি এ বছর ১০টি বাগান কিনেছেন। তিনি জানান, প্রায় কুড়ি লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা বাগানগুলো এখন পরিচর্যা করে চলেছেন।
তিনি জানান, বাগান পরিচর্যা ও আম সংগ্রহ করা পর্যন্ত আরও লাখ পাঁচেক খরচ হবে। আর প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বেচাকেনা হবে বলেও জানান। ঢাকার মহাজনরা এসব বাগান কেনায় টাকার জোগান দেন। শর্ত থাকে আম বাজারজাতের সময় টাকা যোগানদাতার আড়তে আম বিক্রি করতে হবে।


