মাগুরানিউজ.কমঃ
চলতি মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। ধানের ফলনও হয়েছে বাম্পার । ইতিমধ্যে গোটা জেলার মাঠ থেকে ৫০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্ষেত থেকে ধান কাটতে। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে কৃষাণী বধূরা কর্মব্যস্ত রয়েছেন ধান মাড়াই করে ঘরে তুলতে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে এ বছর জেলার ৪ উপজেলায় রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৩ হাজার ৭৫৮ হেক্টর জমিতে। যেখানে চাষ হয়েছে ৫৮ হাজার ৩৮৫ হেক্টরে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হাজার ৬২৭ হেক্টর বেশি। অধিক জমিতে ধান চাষ হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ হাজার মেট্রিক টন চাল বেশি উৎপাদন হবে। যেখানে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাক্ষ ১৫ হাজার ১১৫ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে বেশি জমি চাষ হওয়ার পাশাপাশি বাম্পার ফলনের কারনে মোট চাল উৎপাদন গিয়ে দাড়াবে ১ লাখ ৪৫ হাজার ১১৫ মেট্রিক টনে। যা খাদ্য উদ্বিত্ত জেলা মাগুরার চাহিদ মিটিয়ে অতিরিক্ত এ উৎপাদন দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
সদর উপজেলার মঘি এলাকার গিয়ে দেখা গেছে কৃষকরা মাঠ থেকে ধান কেটে বাড়ি পৌচ্ছাতে ব্যস্ত রয়েছেন। গ্রামের প্রায় প্রতিটা বাড়িতে চলছে ধান মাড়ায়ের কাজ । কৃষকের পাশাপাশি কৃষাণী বধূরা এ কাজে সহযোগিতা করছেন। যে কারণে জেলার গ্রামে গ্রামে চলছে নবান্ন উৎসব।
মঘি গ্রামের কৃষক খবির হোসেন জানান, তিনি ৫ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলন শীল জাতের ধান চাষ করেছিলেন। বিঘা প্রতি তার ধান উৎপাদন হয়েছে ৩০ মন করে। প্রতি বিঘা ধান চাষে তার খরচ হয়েছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা করে। বর্তমান ৭শ টাকা মন বাজার দরে তিনি ধান বিক্রি করে তার মোটামুটি লাভ হবে। তবে তিনি জানান, সরকার ৯ শ’ থেকে ১ হাজার টাকা ধানের সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করলে কৃষকরা লাভবান হবেন। যাতে করে পরর্বতীতে কৃষকরা ধানে চাষে আরো বেশি উৎসাহিত হবেন।
কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবীদ মোকলেছুর রহমান জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকার পাশাপাশি চলতি আমন মৌসুমে ধারবাহিকভাবে বৃষ্টিপাত হয়েছে । এছাড়া সারসহ কৃষি উপকরণ সহজলভ্য ছিল। কৃষি বিভাগ সার্বক্ষনিকভাবে কৃষকদের পাশে থেকে পরার্মশ দিয়েছে। যে কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ধান চাষের পাশাপাশি ফলনও ভালো হয়েছে। অধিক উৎপাদন জেলার খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় ব্যাপক ভুমিকা রাখবেন।


