মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরাতে মাথাগোঁজার ঠাঁই পেতে অলিগলিতে পইপই করে ঘুরে বাসা খুঁজছেন সরকারী হোঃ শঃ সোঃ কলেজের ছাত্র কাদের। দেওয়ালে লাগানো ‘বাসা ভাড়া দেওয়া হবে’ লেখা সম্বলিত লিফলেট বা পোস্টার অনেকগুলো দেখেছেন। অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। খালি থাকা বাসাগুলো ভাড়াও দিতে চান মালিকরা। তবে ব্যাচেলর কথাটা শুনেই যেন আঁতকে ওঠেন। ভাড়া দিতে চান না। মগুরা শহরে বাসা আছে, কিন্তু ব্যাচেলরদের জন্য পাওয়া অনেক কঠিন, এমনটাই জানালেন কাদের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মাগুরায় ব্যাচেলরদের জন্য বাসা পাওয়া বেশ দুষ্কর। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে মেস পাওয়া গেলেও তার অধিকাংশই থাকার অযোগ্য। যদিও মেলে, তো সেগুলো আলো-বাতাসহীন ও জরাজীর্ণ।পরিবার নিয়ে কেউ ওসব বাসায় উঠতে চায় না বলেই সেগুলো ব্যাচেলরদের কাছে গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে ভাড়া নেহায়েত কম নয়।
বাসা খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত কাদের বলেন, ‘এমনও হয়েছে- বাসা ভাড়ার জন্য লিফলেটে দেওয়া মোবাইল নম্বরে কল দিয়েছি, কথা বলেছি, বাসা দেখেছি, পছন্দও হয়েছে কিন্তু ব্যাচেলর জানার পর তা আর ভাড়া দিতে চান না বাসামালিক। সোজা বলে দেন, ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দেওয়া যাবে না। তাহলে ব্যাচেলর হওয়া কি অভিশাপ?’
ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দিতে চান না কেন, এ প্রশ্নের জবাবে মাগুরা কলেজ পাড়ার বাসামালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ব্যাচেলরদের জীবনযাপনে শৃঙ্খলা নেই। তারা রাত-বিরাতে বাসায় ফেরে। বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এসে হৈ-হুল্লোড় করে। এতে অন্য ভাড়াটিয়াদের সমস্যা হয়।’
সচেতন মহল মনে করেন, মাগুরাতে এই আবাসন সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে।সরকারি ব্যবস্থাপনায় আবাসনের ব্যবস্থা করা উচিত। যারা পড়ালেখা, চাকরি বা ব্যবসার জন্য মাগুরা শহরে আসেন, তাদের অধিকাংশই ব্যাচেলর। সুতরাং অসংখ্য ব্যাচেলরের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে এ সমস্যার আশু সমাধান করা উচিত বলে মনে করেন সচেতন মহল।


