মাগুরায় গরমে নাজেহাল না-মানুষেরাও

মাগুরানিউজ.কমঃ
2

মাগুরায় গরমে মাছের যত্ন নিতে ঢালা হচ্ছে ঠান্ডা পানি। তীব্র গরমে অ্যাকোরিয়ামের রঙিন মাছ থেকে শুরু করে অন্যান্য পশু-পাখিও রীতিমতো নাজেহাল হয়ে পড়েছে। যাঁরা পশু-পাখি পোষেন তাঁরাও এই গরমে পোষ্যদের ভাল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

গরমে কাহিল অ্যাকোয়ারিয়ামের রঙিন মাছেরাও। মাগুরার বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে রঙিন মাছের ব্যবসা করছেন। তিনি জানান, অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছ ২৬ থেকে ২৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ভাল থাকে। তাই এই গরমে প্রতিদিন তিন ভাগের এক ভাগ পানি ফেলে দিয়ে তাপমাত্রা ঠিক রাখার চেষ্টা চলছে। তবে এর বেশি পানি দিলে নতুন পানিতে রোগের আক্রমণের ভয় থাকে। আর সপ্তাহে একদিন তাঁরা মাছকে কোনও খাবার দিচ্ছেন না। সপ্তাহে একদিন ছত্রাক নাশক ওষুধ অ্যাকোয়ারিয়ামে দিচ্ছেন। দেশি মাছ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিচ্ছে পুকুরের জল শুকিয়ে যাওয়ায়। 

আশুতোষ সরকার পাখির ব্যবসা করেন। গত কয়েকদিনে গরমে ও ডায়েরিয়ায় ১৫টি পাখি মারা গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘সারাদিন ঘরে পাখা চালিয়ে রাখতে হচ্ছে। জল রাখতে হচ্ছে খাঁচায়। তারপরেও গরমে কাহিল হয়ে ঝিমোচ্ছে ককটেল, লাভবার্ডের মতো পাখি।

মাগুরা পশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, এই সময়ে পাখির সমস্যা নিয়ে অনেকেই হাসপাতালে আসছেন। খাঁচার মধ্যে পাখি থাকলে বড় পাত্রে ঠান্ডা পানি রাখতে হবে। যাতে পাখিগুলি সেই পানি খাওয়ার পাশাপাশি স্নানও করতে পারে। জলে ওআরএস মিশিয়েও খাওয়ানো যেতে পারে। এই সময় পাখিদের গ্রিন ডায়েরিয়া ও চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ওযুধ দিতে হবে। খাবারে অরুচি দেখা দিলে পাখিদের ক্ষেত্রে নানা ধরনের ফল ও কুকুরকে স্যুপ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গরমে রেহাই মিলছে না গবাদি পশুদেরও। মাগুরা পশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, গরমে গরু খাওয়া কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে দুধও দিচ্ছে কম। এ ক্ষেত্রে গরুকে দিনে দু’তিন বার গোসল করাতে হবে। গরু-ছাগলের খাদ্য তালিকায় গুড় ও লবণ মেশানো জল রাখতে হবে।

মাগুরা সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষকরা বলেন, ‘‘গরমে নদী-নালা শুকিয়ে যাওয়ায় প্রাণীরা নানা রোগে কষ্ট পাচ্ছে। পানির অভাবে মারা যাচ্ছে। সব থেকে কষ্টে রয়েছে বনের পাখি। চার দিকে বৃক্ষনিধন, বহুতল নির্মাণ, পরিবেশ দূষণের জন্য তারা বাসা হারাচ্ছে।’’ তাঁর পরামর্শ, বাড়ির উঠোনে বা ছাদে একটু ছায়া, পানির পাত্রের বন্দোবস্ত করলে পাখিরা সেই পানিতে গোসল করে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিতে পারবে। 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

November ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

November ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
%d bloggers like this: