মাগুরানিউজ.কমঃ
৪৮ ঘণ্টার সফরে আজ বাংলাদেশে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর আমন্ত্রণে তিনি ঢাকা আসছেন। সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়ে দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সঙ্গে সাক্ষাতে মমতাকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও। ১৮ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল থাকছে তার সফর সঙ্গী হিসেবে। এর মধ্যে সেলিব্রেটিরাও থাকছেন। বাংলাদেশে এটি হবে মমতার প্রথম সফর।
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে মমতার এই সফর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে। তার এই সফরের সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দু’টি ইস্যু জড়িয়ে রয়েছে। এর একটি হচ্ছে স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন, অপরটি তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর।
ইস্যু দু’টির সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি কম বেশি জড়িত। কারণ, ইস্যু দু’টি শান্তিপূর্ণ মীমাংসা না হলে তাতে ঘি ঢালবে বিরোধীপক্ষ। তিস্তা চুক্তিটি ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে বিবদমান এই দু’টি ইস্যুর একটা মীমাংসা চেয়ে আসছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও ইস্যূ দু’টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। তবে গোল বাঁধিয়েছেন দিদি নিজেই। তিনি যদি আন্তরিক থাকতেন তা হলে ইস্যু দু’টি আরো আগেই মীমাংসা হতো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দিল্লিতে বসা তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের সঙ্গে শেখ হাসিনার সরকারের সুসম্পর্ক থাকায় মমতাদি সেই সম্পর্কে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করেছিলেন। তখন এমনও খবর বেরোয়, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগকে হারাতে খালেদা জিয়ার অবস্থান মজবুত করতেই মনমোহনের ঢাকা সফরের সময় তিস্তা চুক্তি নিয়ে নাটকীয়ভাবে বেঁকে বসেন মমতা।
মমতা বাংলাদেশে আসছেন- এই খবরে তিস্তা পাড়ের ধুধু বালুচরের লাখ লাখ মানুষ আশায় বুক বেঁধেছেন। তারা চাইছেন মমতাদি এবার তিস্তা চুক্তির সুস্পষ্ট ঘোষণা দেবেন এবং কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। আবার বান ডাকবে তিস্তার বালু চরে।
একথা অস্বীকারের কোনো উপায় নেই, কো-রাইপেরিয়ান স্টেট ( ভাটির দেশ) হিসেবে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়া ওই নদীর অবাহিকায় বাংলোদেশ অংশে বসবাস করা নাগরিকদের স্বীকৃত অধিকার। উজান দেশ হওয়ায় ভারত গায়ের জোরে সেই অধিকার থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করতে পারে না। চুক্তির পরেও গঙ্গার পানির ন্যায্য হিসা না পাওয়ায় রাজশাহী ও বরেন্দ্র এলাকার বিস্তীর্ণ ভূমি আজ মরুতে রূপান্তরের পথে।
মমতা ব্যানার্জিকে বাংলাদেশের মানুষ ‘দিদি’ বলেই ডাকে। তার সাদাসিদে আড়ম্বরহীন জীবন বাংলাদেশের বহু মানুষকে আকৃষ্ট করে। তার সফর নিয়ে সেই সব মানুষের মধ্যে বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দিদির ‘ইতিবাচক মনোভাবে’ সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে। মমতা ব্যানার্জি সেই প্রত্যাশায় তোমাকে স্বাগতম।


