ন্যাশনালডেস্কঃ
ঝিনাইদহের বারোবাজারে বরযাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জনসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরো ৬০ জন বরযাত্রী।
শুক্রবার ভোরে বারোবাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকেই ৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আহত একজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং অন্যজন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে মারা যান। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিহতদের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি গ্রামের অনিল বিশ্বাসের ছেলে সুধির কুমার (৪০), একই গ্রামের জগবন্ধু বিশ্বাসের ছেলে বিপ্লব (২৫), মহা প্রসাদের ছেলে শোভন কুমার (২), রঞ্জন কুমারের স্ত্রী বন্যা (৩৫), ছেলে কৌশিক (৮), ভাগ্নি ভবেশ কুমারের মেয়ে কৃষ্ণা (৩০), আবাস সাহার ছেলে সুজয় সাহা (৩০), সুধির কুমারের ছেলে অলোক কুমার, ফরিদপুরের কানাইপুর এলাকার শ্যামল দাসের ছেলে উজ্জল দাস (২৮) ও কালীগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বিমল কুমার।
ট্রেনের অ্যাটেনডেন্ট আব্দুল হান্নান জানান, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি বারোবাজার স্টেশন পার হয়। এর ৫ মিনিট পরেই বিকট শব্দ শুনে দুর্ঘটনার বিষয়টি টের পান তারা। বারোবাজার রেলক্রসিংয়ে একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ঠেলে নিয়ে যায়। এ সময় আশপাশে ছিটকে পড়তে থাকেন বাসযাত্রীরা। প্রায় দেড় কিলোমিটার পার হয়ে ট্রেনটি থামানো হয়।
আহত বাসযাত্রীরা জানান, তারা ঝিনাইদহের শৈলকূপার ফুলহরি গ্রাম থেকে সনাতন ধর্মের একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে বরযাত্রী হিসেবে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সাঁকো গ্রামে যান। বাসটিতে ৭০ জনের বেশি বরযাত্রী ছিলেন। ফেরার পথে ভোরে তারা দুর্ঘটনা কবলিত হন।
এদিকে, এ সংঘর্ষের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে বারোবাজার রেল স্টেশন মাস্টার তুর্কি আহমেদ ও দুই লাইনম্যান মোমিনুর রহমান ও হুমায়ন কবিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১১টায় উদ্ধার কাজ শেষে রেলওয়ের খুলনা বিভাগীয় সুপারিনটেন্ডেন্ট হাবিবুর রহমান প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন।

